শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

| ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

সুইডেনে ইসলাম বিদ্বেষ এড়াতে স্কুল বদলাচ্ছে মুসলিম শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০:৪৪, ১২ নভেম্বর ২০২৫

সুইডেনে ইসলাম বিদ্বেষ এড়াতে স্কুল বদলাচ্ছে মুসলিম শিক্ষার্থীরা

ছবি : সংগৃহীত

সুইডেনে ইসলাম বিদ্বেষ ও বর্ণবাদের শিকার হয়ে অনেক মুসলিম শিক্ষার্থী স্কুল পরিবর্তন করছে। তারা শহরের কেন্দ্রস্থলের স্কুলের বদলে শহরতলির স্কুলে পড়তে বেশি আগ্রহী। গ্যোটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

আরবি সংবাদমাধ্যম আলকমপিসের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষাবিদ ক্রিস্টোফার আলি থোরেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় এলাকার স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীরা বারবার বৈষম্য ও ঘৃণার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। তাই তারা তুলনামূলকভাবে সহনশীল পরিবেশের আশায় শহরতলির স্কুলে ভর্তি হচ্ছে।

থোরেন নিজেও একজন মুসলিম গবেষক। তিনি সুইডিশ টেলিভিশন এসভিটিকে বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে খুব কম গবেষণাই হয়েছে। অথচ মুসলিম শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা দেখায়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

গবেষণায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকে জানিয়েছেন, শহরতলির স্কুলে শিক্ষক ও সহপাঠীদের আচরণে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন। শহরের কেন্দ্রীয় স্কুলগুলোতে ইসলামবিদ্বেষ, কটূক্তি ও বৈষম্যমূলক আচরণ তুলনামূলকভাবে বেশি।

থোরেন মনে করেন, মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মপরিচয়ের বোধ জাগ্রত করা এবং তাদের ধর্মীয় চাহিদাকে স্বীকৃতি দেওয়াই অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার মূল চাবিকাঠি। 

তিনি বলেন, ‘স্কুলে নামাজের জন্য নিরিবিলি কক্ষ রাখা বা ইসলামি উৎসবগুলো স্বীকৃতি দেওয়া, এ ধরনের ছোট উদ্যোগই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতির অনুভূতি জাগাতে পারে।’

সুইডেনের আইনে শিক্ষা ব্যবস্থা ধর্মনিরপেক্ষ হলেও থোরেন মনে করেন, এর অর্থ ধর্ম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা নয়। 

তিনি বলেন, ‘স্কুলগুলোতে বড়দিন ও ইস্টারের মতো খ্রিস্টীয় উৎসব পালিত হয় এবং মুসলিম শিক্ষার্থীদেরও তাতে অংশ নিতে বলা হয়। আমি এসব অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলছি না, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে ইসলামি উৎসবগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বর্তমানে সুইডেনে স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে, তারা শিক্ষার্থীদের নামাজ বা রোজার মতো ধর্মীয় চর্চার অনুমতি দেবে কি না। থোরেন এ নীতিকে সমস্যাজনক বলে মনে করেন। তার মতে, স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব স্কুলে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি ও সংঘাত সৃষ্টি করে।

তিনি গ্যোটেনবার্গ সিটি কাউন্সিলকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের রোজা ও নামাজসংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে। তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার পরিবেশ গড়ে উঠবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ:

খালেদা জিয়ার অবস্থা বিদেশ নেওয়ার মতো স্থিতিশীল নয় : ফখরুল
তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাল থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু
ব্যবসায়ীদের কমফোর্ট জোন দিতে ব্যর্থ রাজনীতি: জামায়াত আমির
অবস্থার উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি
ই-রিটার্নে রেকর্ড: ২০ লাখের বেশি রিটার্ন দাখিল
খেলাপি ঋণ সংকট কাটাতে ১০ বছর লাগবে: গভর্নর
ফ্লাই করার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া—এভারকেয়ার থেকে জানালেন মান্না
এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ বিএনপির
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
খালেদা জিয়াকে সিঙ্গাপুর বা ইউরোপে নিতে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত
খালেদা জিয়াকে নিয়ে মুশফিকুলের আবেগঘণ স্মৃতিচারণ ‘আমার ব্যক্তিগত ঋণ’
‘লুটপাটকারীদের শাস্তি দিন, কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়াবেন না’ — মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থায় রাষ্ট্রপতির গভীর উদ্বেগ
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় উপদেষ্টার পরিষদের সভায় দোয়া
তফসিল কবে জানালেন সিইসি নাসির উদ্দিন
দুটি বিতর্কিত অভিযানের পর র‍্যাব-১৫–এ ‘গণবদলি’
বেগম জিয়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অনন্য অনুপ্রেরণা: নাহিদ ইসলামের বিবৃতি
দেশে ফেরার বিষয়ে কথা বললেন তারেক রহমান