দুবাইয়ে স্কুল, হিঞ্জে প্রেম-যেভাবে মামদানির জীবনে এলেন রামা দুয়াজি
সমাজকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:১৫, ৭ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৮:১৭, ৭ নভেম্বর ২০২৫
রামা দুয়াজি এবং নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: জিও টিভি
নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানি শুধু তার রাজনীতি বা নির্বাচনী বিজয়ের কারণেই আলোচনায় নন, আলোচনায় আছেন তার স্ত্রী রামা দুয়াজিও। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম তরুণ ও প্রগতিশীল এই দম্পতির গল্প যেন রূপকথার মতোই—যেখানে আছে দুবাইয়ের স্কুলজীবন, শিল্পকলার প্রতি অনুরাগ এবং হিঞ্জ নামের একটি অ্যাপ থেকে শুরু হওয়া ভালোবাসার গল্প।

দুবাই থেকে নিউইয়র্ক—এক তরুণীর শিল্পযাত্রা
সিরীয় বংশোদ্ভূত রামা দুয়াজি জন্মেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে। বয়স যখন নয়, তখন পরিবার নিয়ে চলে আসেন দুবাইয়ে। তার বাবা একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার, মা একজন চিকিৎসক। ছোটবেলা থেকেই শিল্পকলার প্রতি আকর্ষণ ছিল রামার, যদিও বাবা-মা চেয়েছিলেন তিনি বাস্তবমুখী কোনো পেশা বেছে নিন।
দুবাইয়ে স্কুলজীবনেই রামা সিদ্ধান্ত নেন তিনি শিল্পই বেছে নেবেন জীবনের পথ হিসেবে। পরে ভর্তি হন ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি স্কুল অব দ্য আর্টস (কাতার ক্যাম্পাসে)। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার মূল ক্যাম্পাসে গিয়ে ২০১৯ সালে কমিউনিকেশন আর্টসে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
এরপর দুবাই, বৈরুত ও প্যারিসে বিভিন্ন আর্ট রেসিডেন্সিতে অংশ নেন তিনি। ২০২১ সালে রামা নিউইয়র্কে আসেন স্কুল অব ভিজ্যুয়াল আর্টসে মাস্টার্স করতে—সেখানেই শুরু হয় জীবনের নতুন অধ্যায়।
‘হিঞ্জ’-এর মেলবন্ধন থেকে ভালোবাসা
নিউইয়র্কে আসার পর রামা পরিচিত হন জোহরান মামদানির সঙ্গে—একটি ডেটিং অ্যাপ ‘হিঞ্জ’-এ। তখন মামদানি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির তুলনামূলক কম পরিচিত সদস্য। অল্প সময়েই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক।
২০২৪ সালের অক্টোবরের ২১ তারিখে মামদানি ইনস্টাগ্রামে রামার একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, “লাইট অফ মাই লাইফ,” সঙ্গে একটি রিং ইমোজি ও হ্যাশট্যাগ #hardlaunch। দুই দিন পরই তিনি ঘোষণা দেন মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার।
দুবাই ক্রিক হারবারের ছাদে আয়োজিত হয় তাদের বিয়ে ও এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠান—‘গার্ডেন রোমান্স’-এর সাজে সাজানো সেই অনুষ্ঠান আলোড়ন তোলে সামাজিক মাধ্যমে। পরে নিউইয়র্কের সাবওয়েতে তোলা তাদের কোর্টহাউস বিয়ের ছবিও ভাইরাল হয়।

এক নীরব সমর্থনের গল্প
রামা দুয়াজি প্রচারের আলোয় থাকতে চান না। তিনি নিজের শিল্পকর্মের মাধ্যমেই কথা বলেন। তার একটি চিত্রকর্মে দেখা যায়—গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষদের হাতে ধরা সেই ছোট ছোট জিনিস, যা নিয়ে তারা পালিয়ে গিয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে রামা বলেন,“অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব। শিল্পকলা সেই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।”
গাজা, সুদান ও লেবাননের মানবিক সংকট নিয়ে তার শিল্প বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবুও তিনি রাজনীতিকদের প্রচলিত ‘ফার্স্ট লেডি’ রূপে নিজেকে তুলে ধরেননি—থাকতে চেয়েছেন নিঃশব্দে, দূর থেকে, কিন্তু পাশে।

নিউইয়র্কের জেন-জি ফার্স্ট লেডি
মাত্র চার বছর আগে একজন তরুণ শিল্পী হিসেবে নিউইয়র্কে পা রাখা রামা দুয়াজি এখন এই শহরের প্রথম জেন-জি ফার্স্ট লেডি। জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক বিজয়ের পর তিনি আলোচনায় এলেও এখনও সযত্নে গোপন রাখছেন নিজের ব্যক্তিগত জীবন।
দম্পতি এখন বাস করেন অ্যাস্টোরিয়া, কুইন্সে—যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতি, আরবি খাবার ও শিল্পচর্চার সমৃদ্ধ মিশেল আছে। এখানেই হয়তো রামা নতুন অনুপ্রেরণা খুঁজে নিচ্ছেন নিজের ক্যানভাসের জন্য।
জোহরান মামদানি যেমন রাজনীতিতে এক নতুন তরঙ্গ তুলেছেন, তেমনি রামা দুয়াজিও নিঃশব্দে এক নতুন সংবেদন ছড়িয়ে দিচ্ছেন নিউইয়র্কের সংস্কৃতি জগতে।
সূত্র: খালিজ টাইমস
