জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৩০, ৭ নভেম্বর ২০২৫
সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ছবি : রয়টার্স
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এর ফলে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে কোনো বাধা থাকছে না এই নতুন নেতার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়ে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) এই সিদ্ধান্ত নেয় নিরাপত্তা পরিষদ। খবর বিবিসির।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আহমেদ আল-শারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে দেশটিতে ১৩ বছরের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, “এই ভোট একটি শক্তিশালী বার্তা—আসাদের যুগের অবসান ঘটেছে এবং সিরিয়া এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি সিরিয়া এখন স্থিতিশীলতার পথে এবং আন্তর্জাতিক সমাজ তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।”
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর আসন্ন সোমবার আহমেদ আল-শারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করবেন। ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, “সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন।”
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে রিয়াদ সফরের সময় দু’নেতার মধ্যে প্রথম বৈঠক হয়। তখন ট্রাম্প শারাকে ‘দৃঢ়চেতা ও শক্ত অবস্থানের অধিকারী নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
আহমেদ আল-শারা একসময় ইসলামপন্থি সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর নেতৃত্ব দিতেন, যা আগে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন ছিল। এই কারণে তিনি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন।
তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এইচটিএসকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেয়।
নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাবের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ আমাদের মিত্র দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা আমাদের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।”
আগামী সোমবারের সফর হবে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে শারার দ্বিতীয় সফর। এর আগে সেপ্টেম্বরে তিনি প্রায় ছয় দশক পর প্রথম সিরীয় নেতা হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মাধ্যমে সিরিয়া আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির মূলধারায় ফিরে আসার পথে বড় পদক্ষেপ নিল।
