মার্কিন রক্ষণশীলদের সমালোচনায় বিদ্ধ পোপ লিও
সমাজকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:৪৯, ৬ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ০০:৩৬, ৭ অক্টোবর ২০২৫
অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রো-লাইফ ইস্যুতে মন্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল ক্যাথলিক ও ট্রাম্প সমর্থকদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। পোপের বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক বিশপ ও ডানপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শিকাগোর ক্যাথলিক ধর্মযাজক ব্লেস জোসেফ কুপিচ সম্প্রতি সিনেটর ডিক ডারবিনকে অভিবাসন সহায়তায় অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা দিতে চাইলেও গর্ভপাত অধিকারের সমর্থনের কারণে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। এ নিয়ে অন্তত ১০ জন মার্কিন বিশপ প্রকাশ্যে আপত্তি জানান। শেষ পর্যন্ত ডারবিন নিজেই পুরস্কার গ্রহণ না করার ঘোষণা দেন।
তবে পোপ লিও বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ডারবিনের চার দশকের জনসেবার দিকটিও বিবেচনা করা উচিত। তিনি বলেন, গর্ভপাতের বিরোধিতা করা এবং মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করা প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী নয়, একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের প্রতি অমানবিক আচরণ সমর্থন করা জীবনপন্থী কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পোপ লিওর মূল বক্তব্য হলো, প্রো-লাইফ বা জীবনপন্থী অবস্থানকে শুধু গর্ভপাতের বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। প্রকৃত অর্থে প্রো-লাইফ মানে হলো সর্বত্র মানবজীবনের মর্যাদা রক্ষা করা। তার যুক্তি হলো, কেউ যদি গর্ভপাতের বিরোধিতা করেন, কিন্তু একইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করেন, তাহলে তার অবস্থান দ্বৈত বা অসঙ্গতিপূর্ণ হয়। কারণ একদিকে তিনি অনাগত শিশুর জীবন বাঁচানোর কথা বলছেন, কিন্তু অন্যদিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে মানুষের জীবন হরণকে বৈধতা দিচ্ছেন।
একইভাবে, যদি কেউ গর্ভপাতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, অথচ অভিবাসীদের প্রতি অমানবিক আচরণকে সমর্থন করেন বা চুপ থাকেন, তবে সেটিও প্রকৃত প্রো-লাইফ অবস্থান নয়। কারণ প্রো-লাইফ কেবল জন্মের আগের শিশুর জীবন নয়, জন্ম নেওয়া প্রতিটি মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গেও যুক্ত। অর্থাৎ জীবনপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি সর্বাঙ্গীন হতে হবে। এতে শুধু গর্ভপাত নয়, মৃত্যুদণ্ড, শরণার্থী ও অভিবাসীদের মানবিক অধিকারসহ সর্বত্র জীবন ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন জড়িত।
পোপের এই মন্তব্য ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়। রক্ষণশীল ক্যাথলিকরা একে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দেন। ট্রাম্প সমর্থক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ম্যাট ওয়ালশ এটিকে ‘ভয়াবহ কথা’ বলে অভিহিত করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রভাবশালী ডানপন্থী জ্যাক পসোবিয়েক লেখেন, ‘কিছু পোপ আশীর্বাদ, আবার কিছু পোপ আশীর্বাদ নয়।’
অবসরপ্রাপ্ত বিশপ জোসেফ স্ট্রিকল্যান্ড বলেন, পোপ লিওর বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এই অনুষ্ঠনের পরদিন জলবায়ু সুরক্ষা বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে পৃথিবী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান পোপ। এর আগে মিনেসোটা স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অস্ত্র বিস্তারের নিন্দা জানিয়ে তিনি একে ‘অস্ত্রের মহামারী’ বলে আখ্যা দেন। এ ছাড়া বিশাল করপোরেট সিইওদের অস্বাভাবিক বেতন কাঠামো নিয়েও সমালোচনা করেন এবং ইলন মাস্কের নাম উল্লেখ করেন।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রথম পোপ হিসেবে লিও চতুর্দশ নিজেকে ট্রাম্প প্রশাসনের ভারসাম্য রক্ষাকারী কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। তবে তার ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, তিনি সরাসরি ‘অ্যান্টি-ট্রাম্প’ নন, বরং আলোচনার মাধ্যমে সেতুবন্ধন গড়তে আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, লিও চতুর্দশ পোপ ফ্রান্সিসের মতোই ‘সাংস্কৃতিক যুদ্ধ’ এড়িয়ে চলতে চান। কিন্তু মানবিক মর্যাদা ও অভিবাসী সুরক্ষার মতো নীতিগত বিষয়ে আপস করবেন না।
সূত্র : সিএনএন
