লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ে তরুণদের সঙ্গে মহিলা পরিষদের কর্মশালা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮:৫৯, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
কর্মশালার ফটোসেশনে। ছবি : মহিলা পরিষদথেকে পাওয়া।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেছেন, “সহিংসতা ঘটলে তা শুধু একটি ঘটনা নয়, এটি প্রতিরোধের এজেন্ডা হয়ে সামনে আসে। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো নারীর প্রতি সহিংসতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার সহিংসতা, যা নারীর অবস্থানকে আরও নাজুক করে তুলছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নারী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্ব গ্রহণে এগিয়ে আসতে হবে।”
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে রাজধানীতে আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে “লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং নারীর মানবাধিকার” শীর্ষক তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, প্রতিবাদের শক্তি যত জোরালো হচ্ছে, বিরুদ্ধ শক্তিও তত সক্রিয় হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তরুণদের নিজেদের জ্ঞান ও সচেতনতা কাজে লাগিয়ে সামাজিক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে হবে। পরিবার থেকেই নিজের ইচ্ছা–অধিকার প্রকাশে সরব হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ আমাদের বৈশ্বিক আহ্বান জানায় সহিংসতা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হতে। তিনি জানান—ইউএন উইমেনের জরিপ অনুযায়ী প্রতি তিনজনে একজন নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে সহিংসতার শিকার হন।
বিবিএস প্রকাশিত তথ্য নারীর ওপর সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মালেকা বানু বলেন,, “শুধু নারী হওয়ার কারণেই নারীরা শারীরিক, যৌন, মানসিক ও আর্থিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এটি যে মানবাধিকার লঙ্ঘন—এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত না হলে প্রতিরোধ আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।”
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট, নারীর মানবাধিকার আন্দোলন ও সংগঠনের লক্ষ্য–উদ্দেশ্য এবং সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরেন।
কর্মশালায় উপস্থিত তরুণীরা চারটি দলে ভাগ হয়ে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ধরন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা এবং প্রতিরোধে তরুণদের ভূমিকা বিষয়ে দলীয় কাজ ও উপস্থাপনা করেন। তাদের উপস্থাপনায় উঠে আসে—লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার সঠিক সংজ্ঞায়ন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা,বৈষম্যমূলক সাংস্কৃতিক রীতিনীতির পরিবর্তন,অনলাইন সচেতনতা বৃদ্ধি,পাঠ্যসূচিতে সহিংসতা প্রতিরোধ শিক্ষা সংযোজন,সম্পদে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করা,পরিবারে খোলামেলা আলোচনা বৃদ্ধি এবংনারী–পুরুষ নির্বিশেষে সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলা।
মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, “তরুণদের চিন্তা ও আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্যের মধ্যে সুস্পষ্ট মিল রয়েছে। সহিংসতার নৃশংসতা থেকে মুক্ত হতে সংগঠিত আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। নারীর অধিকার আদায়ে বাধা শনাক্তে আমাদের গবেষণা চলছে।”
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ, সম্পাদকমণ্ডলী, কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়–কলেজের শিক্ষার্থী, গ্রীণভয়েজ বহ্নিশিখা, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ ও ব্লাস্টের তরুণী প্রতিনিধিরা।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের উপপরিষদ সদস্য খালেদা ইয়াসমিন কণা।
