নারীর বিরুদ্ধে সংসহিসতা রোধে ইতালিতে আইন পাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২:১৯, ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১২:২৪, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
ইতালিতে নারী হত্যাকে (ফেমিসাইড) আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আজীবন কারাদণ্ডের বিধানসহ কঠোর নতুন আইন পাস হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারী হত্যা ও নারীর ওপর সহিংসতার ধারাবাহিক বৃদ্ধি—বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জুলিয়া চেচেত্তিন হত্যাকাণ্ড—দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছিল। সেই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বে এই আইন প্রণয়ন করে ইতালি।
নতুন আইনটি স্টকিং, রিভেঞ্জ পর্ন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ লিঙ্গভিত্তিক অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান করেছে। এছাড়া অ্যান্টি-ভায়োলেন্স সেন্টার, আশ্রয়কেন্দ্র, হটলাইন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য বাড়তি বাজেট বরাদ্দও ঘোষণা করেছে সরকার।
এপি’কে উদ্ধৃত করে জানা গেছে, জাতিসংঘ ঘোষিত নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে ইতালির নিম্নকক্ষে আইনটির ওপর চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে মোট ২৩৭ ভোট আইনটির পক্ষে পড়ে। ক্ষমতাসীন কেন্দ্রে-ডান জোট এবং কেন্দ্রে-বাম বিরোধী দল উভয়েই বিলটিকে সমর্থন করে, যা এই ইস্যুতে বিরল রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন,“আমরা অ্যান্টি-ভায়োলেন্স সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর জন্য অর্থায়ন দ্বিগুণ করেছি, জরুরি হটলাইন চালু করেছি এবং শিক্ষামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করেছি। এগুলো বাস্তব অগ্রগতি—কিন্তু এখানেই থামা যাবে না। প্রতিদিন আরও কাজ করতে হবে।”
মেলোনি আরও জানান, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র—সব জায়গায় দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতামূলক উদ্যোগ চালু করা হবে।
২০২৩ সালে ২২ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জুলিয়া চেচেত্তিন হত্যাকাণ্ড ইতালির পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো, সম্পর্কভিত্তিক সহিংসতা, ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র জাতীয় আলোচনার জন্ম দেয়।
হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে কড়া আইন দাবি করে।
কঠোর আইনে যা থাকছে
? নারী হত্যাকে পৃথক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি
আজীবন কারাদণ্ডের বিধান
? স্টকিং ও রিভেঞ্জ পর্নে কঠোর শাস্তি
? তহবিল দ্বিগুণ
অ্যান্টি-ভায়োলেন্স সেন্টার
আশ্রয়কেন্দ্র
? জরুরি হটলাইন ও ২৪/৭ সাপোর্ট
? শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি
? উচ্চঝুঁকির ভিকটিমদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা
