জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রতি ১০ মিনিটে আপনজনের হাতে খুন হন একজন নারী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৩৮, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
বিশ্বজুড়ে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদন। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী তার আপনজনের হাতে খুন হয়েছেন। জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ বলয় পরিবার—সেখানেই সবচেয়ে ভয়াবহ বিপদে পড়ছেন নারীরা।
৫০ হাজার নারী নিহত ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা পরিবারের হাতে
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় এবং নারীর অধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে—
২০২৪ সালে প্রায় ৫০ হাজার নারী ও মেয়েকে হত্যা করেছে তাদেরই ঘনিষ্ঠ সঙ্গী, স্বামী, প্রেমিক বা পরিবারের সদস্যরা।
এই সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ১৩৭ জন নারী এবং প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী হত্যার সমান—যা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ভয়াবহতার নির্মম প্রমাণ।
নারী হত্যার ৬০% ঘটে পরিবারে—পুরুষের ক্ষেত্রে মাত্র ১১%
প্রতিবেদন বলছে,বিশ্বজুড়ে নিহত নারী ও মেয়েদের ৬০ শতাংশই মারা যায় পরিবারের কারও হাতে।বিপরীতে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১১ শতাংশ।
অর্থাৎ, ঘর—যা সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা হওয়ার কথা—সেটিই নারীর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘ জানায়, ২০২৩ সালের তুলনায় সংখ্যা কিছুটা কম মনে হলেও এটিকে উন্নতি বলা যাবে না। অনেক দেশ থেকে তথ্য জমা দেওয়ার পদ্ধতি বা সময় ভিন্ন হওয়ায় এই সামান্য পার্থক্য দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, প্রকৃত সংখ্যাটি হয়তো আরও বেশি।
তিনি বলেন, “নারী নির্যাতনজনিত হত্যাকাণ্ডে কোনো উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতি বছর হাজারো নারী ও মেয়ের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে—নিরাপদ পরিবেশের কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি নারীহত্যা: নিহত প্রায় ২২ হাজার
২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, নারীহত্যার সর্বোচ্চ হার দেখা গেছে আফ্রিকায়—প্রায় ২২ হাজার নারী হত্যার শিকার হয়েছেন এই অঞ্চলে।
বিশ্বের কোনো অঞ্চলই এই সহিংসতা থেকে মুক্ত নয়—এ কথাও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে।
ইউএন উইমেনের নীতি বিভাগের পরিচালক সারাহ হেন্ড্রিক্স বলেন— “নারী হত্যা কখনোই একক ঘটনা নয়। এটি সাধারণত ধারাবাহিক সহিংসতার চরম পরিণতি—যা শুরু হয় নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, ভয়ভীতি দেখানো, অনলাইন হয়রানি, হুমকি, এমনকি ডিজিটাল স্টকিং থেকে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি যেমন নারীর ক্ষমতায়ন বাড়িয়েছে, তেমনি সৃষ্টি করেছে নতুন ধরনের ঝুঁকিও। এর মধ্যে রয়েছে—অনিচ্ছাকৃত ছবি শেয়ারিং, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস (ডক্সিং), অনলাইন স্টকিং
এই ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হয়ে বহু নারী বাস্তব জীবনে প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে পড়ছেন।
হেন্ড্রিক্স আরও বলেন—“অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রের সহিংসতাকে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধীকে শাস্তি দিতে দেরি হলে সেই সহিংসতা প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।”
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন বৈশ্বিকভাবে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত স্তরে আরও সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছে।
