বাংলাদেশের প্রিয় নাম জর্জ হ্যারিসনকে হায়িয়েছি
সমাজকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৩৭, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
মানবসভ্যতার নানা পর্যায়ে ২৯ নভেম্বর দিনটি স্মরণীয় কেবল ঐতিহাসিক ঘটনাতেই নয়, বরং তাতে যুক্ত রয়েছে বিশ্বসাহিত্য, সংগীত, শিল্প, রাজনীতি ও সমাজসেবার অনন্য কিছু ব্যক্তিত্বের প্রয়াণের দিনও। যাঁদের জীবনকর্ম আজও পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।
নীচে তাদের মধ্য থেকেই কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের স্মরণ—
১০৫৮ — ফ্রান্সের রাজা চতুর্থ ফিলিপ
মধ্যযুগীয় ফ্রান্সে রাজশক্তির প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শাসক চতুর্থ ফিলিপ ১০৫৮ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শাসনামলে রাজদরবারের সংস্কার, প্রভাব বিস্তার এবং ইউরোপীয় ভূরাজনীতিতে অবস্থান সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টা ইতিহাসে উল্লিখিত।
১৬৪৩ — ক্লাওদিও মোন্তেভেরদে, ইতালির কিংবদন্তি সুরকার
ইউরোপীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে অপেরা ধারার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী মোন্তেভেরদে। ২৯ নভেম্বর তার প্রয়াণ সংগীতবিশ্বে এক যুগের অবসান ঘটায়। তার L’Orfeo আজও বিশ্বসংগীতের অমূল্য সম্পদ।
১৮১২ — হাজী মুহাম্মদ মুহসীন, বাংলার মহতী দানবীর
বাংলার সমাজসেবার ইতিহাসে সবচেয়ে সম্মানিত নামগুলোর একটি মুহসীন। শিক্ষাব্রত, দানশীলতা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য তাঁর অবদান উপমহাদেশে অনন্য উদাহরণ। কলকাতার ‘মুহসীন ফান্ড’ তাঁর মানবসেবার অমর স্মারক।
১৯২৪ — জিয়াকোমো পুচিনি, ইতালির বিশ্বখ্যাত কম্পোজার
ম্যাডামা বাটারফ্লাই, টুরামডঠ, লা বোহেমি —এসব অমর অপেরার স্রষ্টা পুচিনি। তার সুরায়োজন পাশ্চাত্য সংগীতকে এনে দেয় আধুনিক আবেগ ও নাটকীয়তার নতুন দিগন্ত।
১৯৪৯ — কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলা রসসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা
হাস্যরস, ব্যঙ্গ ও সহজাত বৌদ্ধিক রীতির লেখনীতে কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে নিজস্ব স্থান গড়ে নেন। তাঁর লেখায় পাওয়া যায় মধ্যবিত্ত জীবনের অনুপম হাসি-কান্না।
১৯৫১ — প্রমথেশ চন্দ্র বড়ুয়া (পি. সি. বড়ুয়া), ভারতীয় চলচ্চিত্রের পথিকৃত
ভারতের প্রথমদিকের নায়ক, চলচ্চিত্রকার ও কাহিনিকার বড়ুয়া বাংলা সিনেমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন বৈপ্লবিক উচ্চতায়। তার দেবদাস নির্মাণ ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে মাইলফলক। ২৯ নভেম্বর তার প্রয়াণে এক বহুমাত্রিক শিল্পীকে হারায় উপমহাদেশ।
১৯৮৭ — মোহাম্মদ তোয়াহা, ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠক ও রাজনীতিবিদ
বাংলা ভাষা আন্দোলনের প্রথম সারির কর্মী তোয়াহা রাজনৈতিক সংগ্রাম, সংগঠনের কাজে এবং শিক্ষা-সচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর জীবন ছিল আপসহীন আদর্শ ও দেশপ্রেমের প্রতীক।
১৯৯৩ — জে. আর. ডি. টাটা, ভারতের অগ্রগণ্য শিল্পপতি
ভারতের শিল্পায়ন ও আধুনিক বেসামরিক বিমান চলাচলে টাটা পরিবারের এই দিকপাল ছিলেন পথপ্রদর্শক। এয়ার ইন্ডিয়াকে –কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠায় তার অবদান আজও স্মরণীয়।
২০০১ — জর্জ হ্যারিসন, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী
দ্য বিটলস–এর ‘সাইলেন্ট জিনিয়াস’ হিসেবে খ্যাত জর্জ হ্যারিসন ছিলেন বিংশ শতকের সর্বাধিক প্রভাবশালী গিটারিস্টদের একজন। পূর্বের সুর, আধ্যাত্মিকতা ও পাশ্চাত্যের রক—এই মেলবন্ধন তাকে পৃথিবীজুড়ে অনন্য করে তুলেছিল।
২৯ নভেম্বরের এই দিনটি তাই স্মরণ করিয়ে দেয়, শিল্প-সংস্কৃতি, রাজনীতি, সমাজসেবা ও মানবিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বহু আলোচিত ব্যক্তিত্বের প্রয়াণলগ্ন। তাঁদের জীবনের আলো আজও ইতিহাসকে উজ্জ্বল করে।
