ইতালীয় ভাস্কর ও পেইন্টার গিয়ান লরেনযো বেরনিনির মৃত্যুবার্ষিকী আজ
সমাজকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭:৪৯, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
২৮ নভেম্বর বিশ্ব ইতিহাসে শুধু ঘটনা–দুর্যোগ বা রাজনৈতিক মোড় ঘোরানোর দিনই নয়, বরং এটি এমন একটি দিন যখন আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি বিভিন্ন প্রজন্মের অসংখ্য গুণী মানুষকে। সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, ইতিহাস, বিজ্ঞান, রাজনীতি—সব ক্ষেত্রেই এই দিনে পৃথিবী হারিয়েছে কিছু অনন্য প্রতিভা। সমাজকাল আজ তুলে ধরছে তাদের স্মৃতি, জীবন ও অবদান।
ইতিহাস ও সংস্কৃতির আলোয় ২৮ নভেম্বরের মৃত্যুবার্ষিকী
১০৫৮ — পোল্যান্ডের ডিউক কেজিমিয়ের্জ
পোল্যান্ডের রাষ্ট্রগঠনের প্রাথমিক পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কেজিমিয়ের্জ ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত নেতৃত্বের প্রতীক।
১৬৮০ — গিয়ান লরেনযো বেরনিনি, ইতালীয় ভাস্কর ও পেইন্টার
বারোক শিল্পরীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী ভাস্কর ও স্থপতি। রোমের ভ্যাটিকান সিটি থেকে শুরু করে বহু স্থাপত্য তার শিল্পদৃষ্টিকে অমর করে রেখেছে।
১৬৯৪ — মাৎসু বাসো, জাপানি কবি
হাইকু কবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বাসোর লেখায় জাপানি দর্শন, প্রকৃতি আর অন্তর্জগতের অনন্য প্রকাশ দেখা যায়। তাঁর হাইকু আজও বিশ্বসাহিত্যে অমূল্য সম্পদ।
১৮৫৯ — ওয়াশিংটন আরভিং, মার্কিন ছোটগল্পকার ও ইতিহাসবিদ
দ্য লেজেন্ড অব স্লিপি হলো ও রিপ ভ্যান উইঙ্কল–এর স্রষ্টা আরভিং ছিলেন আমেরিকান সাহিত্যের আধুনিক রূপকার। ছোটগল্প, প্রবন্ধ, জীবনী—সব ক্ষেত্রেই তাঁর সমান দক্ষতা ছিল।
১৮৭০ — জন ফ্রেদেরিখ বাজিল, ফরাসি চিত্রশিল্পী
ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পরীতির অগ্রদূতদের একজন। অল্প বয়সেই যুদ্ধশহীদ হলেও তাঁর শিল্প যে আলো ছড়িয়েছে তা আজও বিশ্বশিল্পায়নে প্রভাব রেখেছে।
১৯৩২ — সুরেন্দ্রনাথ ঘোষ (দানীবাবু), অভিনেতা
বাংলা নাট্যজগতের উজ্জ্বল নাম। চরিত্রাভিনয় ও মঞ্চবাকশৈলীতে তিনি অনন্য ছিলেন।
১৯৪৫ — ডুইট এফ. ডেভিস, আমেরিকান টেনিস কিংবদন্তি
ডেভিস কাপের জনক হিসেবে স্মরণীয়। রাজনীতির ময়দানে যেমন ভূমিকা রেখেছেন, খেলাধুলায় তাঁর অবদান আরও দীর্ঘস্থায়ী।
১৯৫৪ — এনরিকো ফের্মি, ইতালীয় পদার্থবিদ
নোবেলজয়ী ফের্মি পারমাণবিক বিজ্ঞান ও আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের প্রবর্তকদের একজন। নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের প্রথম সফল পরীক্ষাও তাঁর নেতৃত্বে।
১৯৬০ — রিচার্ড রাইট, লেখক ও কবি
আফ্রিকান–আমেরিকান অভিজ্ঞতা ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সাহিত্যিক লড়াইয়ে রাইট ছিলেন শক্তিশালী কণ্ঠ।
১৯৬২ — কৃষ্ণচন্দ্র দে, সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার
বাংলা গানের ইতিহাসে কিংবদন্তি। চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের প্রবর্তকদের একজন তিনি। অন্ধত্ব বাধা তৈরি করতে পারেনি তাঁর সুর–সাম্রাজ্যে।
১৯৬৮ — এনিড ব্লাইটন, ইংরেজ লেখক
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় শিশু-কিশোর সাহিত্যিক। ফেমাস ফাইভ, নোডি, সিক্রেট সেভেন—শিশুদের কল্পনার জগৎ তিনি নতুনভাবে নির্মাণ করেছিলেন।
১৯৭১ — ওয়াসফি তাল, জর্দানের প্রধানমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার সময় নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এক রাজনৈতিক মুখ।
১৯৮০ — বীরেন্দ্রনাথ সরকার, ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক
কলকাতার বিখ্যাত নিউ থিয়েটার্সের প্রতিষ্ঠাতা। বাংলা ও ভারতীয় চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ তাঁর হাত ধরেই।
১৯৮৯ — ফকির শাহাবুদ্দীন, বাংলাদেশের প্রথম অ্যাটর্নি জেনারেল
বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থার ভিত্তি শক্ত করতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
১৯৯৯ — জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক
বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাসচর্চা ও মুক্তচিন্তার পথিকৃৎ। রাজনৈতিক দর্শন ও বাঙালির রাষ্ট্রচিন্তায় তাঁর কাজ অতুলনীয়।
২০০৬ — মোহাম্মদ হানিফ, ঢাকার প্রথম মেয়র
রাজনৈতিক দৃঢ়তায় ও জন–বান্ধব কর্মকাণ্ডে স্মরণীয়। রাজধানীর অবকাঠামো উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা ব্যাপক।
২০১০ — লেসলি নিলসেন, অভিনেতা ও প্রযোজক
কমেডি চলচ্চিত্রে কিংবদন্তি। এয়ারপ্লেন! ও ন্যাকড গান সিরিজে তাঁর হাস্যরস আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে।
২০১৪ — চেস্পিরিটো, মেক্সিকান অভিনেতা ও পরিচালক
লাতিন আমেরিকার পপ–কালচারের আইকনিক নাম। তাঁর চরিত্র এল চাভো আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে অতুলনীয় গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
২০২৪ — অমিয় কুমার বাগচী, ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ
রাজনৈতিক অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও উন্নয়নচিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ীয় গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে তাঁর ভাবনা স্থায়ী প্রভাব রেখেছে।
২৮ নভেম্বর—শ্রদ্ধা, স্মরণ ও ইতিহাসচর্চার এক দিন। পৃথিবী বদলে দেওয়া বহু সৃষ্টিশীল, চিন্তাশীল ও প্রজ্ঞাবান মানুষের মৃত্যুদিন আজ। তাঁদের জীবন, কর্ম ও আদর্শ ভবিষ্যত প্রজন্মের পথচলায় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
