টালসা রেস ম্যাসাকারে সর্বশেষ বেঁচে থাকা মাদার ফ্লেচার মারা গেছেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:১৯, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১১:২৩, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
মাদার ফ্লেচার ১০৯ বছর বয়সে। ছবি : সিএনেন
।যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় ১৯২১ সালের টালসা রেস ম্যাসাকারের সর্বশেষ জীবিত প্রবীণ বেঁচে থাকা নারী ভায়োলা ফোর্ড ফ্লেচার, যিনি বিশ্বজুড়ে “মাদার ফ্লেচার” নামে পরিচিত, সোমবার (স্থানীয় সময়) ১১১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন নাতি আইক হাওয়ার্ড। তিনি জানিয়েছেন— “তিনি হাসিমুখেই আমাদের ছেড়ে গেছেন। মানুষকে ভালবাসতেন, জীবনকে ভালবাসতেন।”
ওকলাহোমা স্টেট সিনেটর রেজিনা গুডউইন স্থানীয় একটি হাসপাতালে পরিবারের পাশে থেকেই তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাদার ফ্লেচার দীর্ঘদিন ধরে সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে এসেছেন। তিনি, আরও কয়েকজন জীবিত বেঁচে থাকা ব্যক্তি মিলে টালসা শহর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, ১৯২১ সালের সেই ভয়াবহ বর্ণবিদ্বেষী হামলায় সম্পূর্ণ অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ অপরাধে অংশ নিয়েছিল এবং ক্ষতির দায় আজও বহন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
১৯২১ সালের ৩১ মে— ওকলাহোমার টালসা শহরের কৃষ্ণাঙ্গ-অধ্যুষিত সমৃদ্ধ ব্যবসায়িক এলাকা গ্রীনউড-এ নেমে আসে ভয়াবহতা। শ্বেতাঙ্গদের ক্ষুব্ধ হামলাকারী দল ৩৫টি ব্লক পুড়িয়ে দেয়, হাজারো কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে— লুটপাট, মারধর এবং নির্বিচারে হত্যা করে।
স্মৃতিচারণায় ফ্লেচার সিএনএনকে বলেছিলে, “মানুষকে হত্যা করা, ঘর-বাড়ি, স্কুল, দোকান— সব আগুনে পুড়তে দেখেছি। সেই ভয় আমার আজও যায়নি।”
ম্যাসাকারের আরেক জীবিত বেঁচে থাকা লেসি বেনিংফিল্ড র্যান্ডল, যার বয়সও ১১১, এখন একমাত্র জীবিত সাক্ষী। ফ্লেচারের মৃত্যুসংবাদ শুনে তিনি নাতনির মাধ্যমে বার্তা পাঠান— “আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। ওকে খুব মিস করব।”
ফ্লেচারের ভাই হিউজ ভ্যান এলিস (আঙ্কেল রেড)— যিনি একই ম্যাসাকারের প্রত্যক্ষ বেঁচে থাকা ছিলেন— ২০২৩ সালে ১০২ বছর বয়সে মারা যান।
২০২৪ সালের জুনে ওকলাহোমা সুপ্রিম কোর্ট জীবিত বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ মামলা খারিজ করে দেয়— যা ছিল দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের বড় ধাক্কা।
লড়াইয়ের প্রধান আইনজীবী দামারিও সোলোমন-সিমন্স বলেন— “তিনি ছিলেন ইতিহাস নয়, ছিলেন আমাদের পরিবারের মত মানুষ। শেষ রাতেও তার চোখে লড়াইয়ের স্পৃহা দেখেছি।”
ফ্লেচার বলতেন— “আমি কখনও ভুলিনি। ভুলতে পারিনি। মানুষের প্রতি সেই ভয় আমার সারাজীবন লেগে ছিল।”
২০২৩ সালে তিনি নাতির সঙ্গে মিলে নিজের স্মৃতিকথা “Don’t Let Them Bury My Story” প্রকাশ করেন, যাতে তিনি বলেন—“হোয়াইট মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি, কিন্তু কখনও টালসার কথা বলিনি। কেন এমন হলো, কেন এত নিষ্ঠুর ছিল তারা— তা বুঝতেই পারতাম না।”
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন বিচার বিভাগ একটি নাগরিক অধিকার তদন্ত শুরু করলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জানায়— “অপরাধীদের সবাই বহু আগে মারা গেছেন, মামলা করার সময়সীমা অনেক আগেই শেষ। নতুন করে অপরাধ তদন্তের কোনও পথ নেই।”
২০২৫ সালের জুনে টালসার মেয়র প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রাইভেট ট্রাস্ট গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন— যা আবাসন, সংস্কৃতি সংরক্ষণ, শিক্ষা ও স্থানীয় ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে “মেরামতের পথ” তৈরির কথা বলে।
তবে এ তহবিলে সরাসরি কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না— যা নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
