মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণীয় ব্যক্তিত্বরা
সমাজকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০০:০৪, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
২৫ সেপ্টেম্বর ইতিহাসে একাধিক খ্যাতিমান ব্যক্তি পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছেন। কমলা ভাসিন (২০২১), দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী নারীবাদী, লেখক ও সমাজকর্মী। নারীর অধিকার আন্দোলনে তার ভূমিকা অমূল্য।
তাদের কর্ম, অবদান ও জীবনধারা মানবসভ্যতায় রেখে গেছে গভীর ছাপ।
রজার বেকান (১২৯৪) ছিলেন মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের দার্শনিক ও রসায়নবিদ। আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিন্তার অগ্রদূত হিসেবে তাকে অনেকে গণ্য করেন। যুক্তি ও পরীক্ষানির্ভর জ্ঞান অর্জনের পথপ্রদর্শক হয়ে আজও তিনি আলোচনায়।
কাস্তিলের প্রথম ফিলিপ (১৫০৬), হ্যাবসবার্গ রাজবংশের প্রথম শাসক, ইউরোপীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব রেখেছিলেন। তার শাসনকালেই হ্যাবসবার্গদের ক্ষমতা সুদৃঢ় হয়।
জাপানের সম্রাট গো-ইয়োজেই (১৬১৭), জাপানি রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সম্রাট হিসেবে স্মরণীয়।
রিং লার্ডনার (১৯৩৩) ছিলেন মার্কিন ক্রীড়া কলামিস্ট ও ছোটগল্পকার। ক্রীড়া সাংবাদিকতায় ব্যঙ্গাত্মক ও রসবোধপূর্ণ লেখা তাকে অনন্য করে তুলেছিল।
রুক্মাবাঈ (১৯৫৫) ছিলেন ভারতের প্রথম নারী চিকিৎসক এবং প্রগতিশীল নারীবাদী। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বাঁধা ভেঙে তিনি নারীর শিক্ষার পথে আলোর দিশা দেখান।
আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার (১৯৬২) চট্টগ্রামের জনপ্রিয় দৈনিক আজাদী-এর প্রতিষ্ঠাতা, যিনি বাংলাদেশি সাংবাদিকতায় পথিকৃৎ।
মধু বসু (১৯৬৯) ছিলেন বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক ও নাট্যব্যক্তিত্ব। মঞ্চ ও চলচ্চিত্রে তার অবদান আজও প্রেরণার উৎস।
এরিখ মারিয়া রেমার্ক (১৯৭০), জার্মান ঔপন্যাসিক, বিখ্যাত All Quiet on the Western Front-এর লেখক। যুদ্ধবিরোধী সাহিত্য তার নামকে বিশ্বখ্যাত করেছে।
আলেহানদ্রা পিসারনিক (১৯৭২), আর্জেন্টিনার কবি, যিনি তার গভীর বিষণ্নতা ও তীব্র আবেগঘন কবিতার জন্য স্মরণীয়।
সমর দাস (২০০১), বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গণসঙ্গীতের প্রাণপুরুষ। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গীতে তার অবদান জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর।
ওয়াঙ্গেরি মাথেই (২০১১), কেনিয়ার পরিবেশবাদী, নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী যিনি বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
এস. পি. বালসুব্রহ্মণ্যম (২০২০), ভারতীয় কিংবদন্তি নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা, যার কণ্ঠ লক্ষ লক্ষ শ্রোতাকে মুগ্ধ করেছে।
কমলা ভাসিন (২০২১), দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী নারীবাদী, লেখক ও সমাজকর্মী। নারীর অধিকার আন্দোলনে তার ভূমিকা অমূল্য।
২৫ সেপ্টেম্বর ইতিহাসে হয়ে আছে বহু জ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিল্পী, রাজনৈতিক নেতা ও সুরকারের প্রয়াণের দিন। তাঁদের চিন্তা, কর্ম ও অবদান মানবসভ্যতায় অমর হয়ে আছে। সমাজ পরিবর্তন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, সাহিত্য, সঙ্গীত কিংবা বিজ্ঞান— প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা রেখে গেছেন এক অনন্য উত্তরাধিকার, যা নতুন প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।
