আজকের দিনে যারা আমাদের ছেড়ে গেছেন
সমাজকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০০:৫১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ডেভিড রিকার্ডো থেকে জিন্নাহ-মণিকুন্তলা: ইতিহাসের এই দিনে স্মরণীয় প্রয়াত ব্যক্তিত্ব
১৮২৩ – ডেভিড রিকার্ডো
ইংরেজ অর্থনীতিবিদ ডেভিড রিকার্ডো ছিলেন আধুনিক অর্থনৈতিক তত্ত্বের অন্যতম পথিকৃত। শ্রমমূল্য তত্ত্ব, মজুরি-লাভের সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘তুলনামূলক সুবিধা’ ধারণা তার অমূল্য অবদান। তিনি দেখিয়েছিলেন কিভাবে দেশগুলো নিজ নিজ শক্তির জায়গায় উৎপাদন করলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে সবাই লাভবান হয়। রিকার্ডোর চিন্তাভাবনা আজও বিশ্ব অর্থনীতি ও নীতি প্রণয়নে আলোচ্য বিষয়।
১৯৪৮ – মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও মুসলিম লীগের প্রধান নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কেন্দ্রীয় চরিত্র। ব্রিটিশ ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা রাষ্ট্রের দাবিকে তিনি শক্তিশালী রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর পাকিস্তান গঠিত হলে জিন্নাহ হন প্রথম গভর্নর জেনারেল। দেশ চালানোর ব্যস্ততার মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবনতি ঘটে এবং ১৯৪৮ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর, করাচিতে।
১৯৫৮ – রবার্ট সার্ভিস
কানাডীয় কবি রবার্ট উইলিয়াম সার্ভিসকে বলা হয় “Bard of the Yukon”। কানাডা ও আলাস্কার উত্তরাঞ্চলের প্রাকৃতিক জীবনযাত্রা, সেখানকার রুক্ষ সৌন্দর্য ও খনি শ্রমিকদের সংগ্রাম তাঁর কবিতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। তাঁর ‘Songs of a Sourdough’ ও ‘Ballads of a Cheechako’ গ্রন্থ তাঁকে বিশ্বখ্যাত করে তোলে। জনপ্রিয়তার কারণে তাঁকে “Canada’s Kipling” নামেও ডাকা হতো।
১৯৭১ – নিকিতা ক্রুশ্চেভ
সোভিয়েত রাষ্ট্রনায়ক নিকিতা সের্গেইয়েভিচ ক্রুশ্চেভ ছিলেন ঠান্ডা যুদ্ধকালীন সময়ে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত নেতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সোভিয়েত রাজনীতিতে তিনি জোসেফ স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন। ক্রুশ্চেভ পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করলেও কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সঙ্গে তীব্র মুখোমুখি অবস্থায় জড়িয়ে পড়েন। তার শাসনামলে সোভিয়েত সমাজে কিছুটা উদারতা এলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ১৯৬৪ সালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়।
১৯৮৭ – মহাদেবী বর্মা
হিন্দি সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি মহাদেবী বর্মা ছিলেন ‘ছায়াবাদ’ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কবি। তাঁকে হিন্দি সাহিত্যে আধুনিক যুগের “মিরাবাই” বলা হয়। তাঁর কবিতায় প্রেম, মানবিকতা, নারীর দুঃখ-দুর্দশা ও সংগ্রামকে গভীর আবেগে তুলে ধরা হয়েছে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক ও সামাজিক আন্দোলনের অগ্রদূত। ১৯৮২ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার’ প্রদান করে। (জন্ম: ২৬ মার্চ ১৯০৭)
১৯৮৭ – মণিকুন্তলা সেন
ভারতের প্রগতিশীল নারী রাজনীতির অন্যতম পথিকৃত মণিকুন্তলা সেন ছিলেন কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাহসী নেত্রী। অবিভক্ত বাংলার মাটি থেকে উঠে এসে তিনি নারী সমাজকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার বিরল ভূমিকা রাখেন। কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন, নারী অধিকার ও সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে তাঁর জীবন নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। ১৯১০ সালে জন্মগ্রহণ করা মণিকুন্তলা সেনকে শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নয়, বরং এক সংগ্রামী নারী কণ্ঠস্বর হিসেবে আজও স্মরণ করা হয়।
