নীলফামারীতে চীনের ১০০০ শয্যা আধুনিক হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবায় কমবে বিদেশের ওপর নির্ভরতা
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১:২২, ২০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৩:৩৭, ২০ নভেম্বর ২০২৫
উত্তরের শিল্পনগরী নীলফামারীর বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। কৃষির পাশাপাশি উত্তরা ইপিজেড জেলার মানুষের জীবনমান কিছুটা বদলেছে। তবে এবার এই অঞ্চলে চীনের সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল। ১০০০ শয্যার এই হাসপাতাল চালু হলে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং দেশের মানুষের চিকিৎসার জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমবে।
নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের আরাজি দারোয়ানি মৌজার প্রায় ২৫ একর জমিতে ওপর গড়ে উঠছে হাসপাতালটি। ৩০ অক্টোবর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নোটিশে জানানো হয়, এটি সম্পূর্ণভাবে চীনা সরকারের অনুদানে গিফট প্রকল্প হিসেবে নির্মিত হবে।
উন্নত চিকিৎসা সুবিধা
নির্মাণাধীন হাসপাতালে থাকবে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইউনিট, জরুরি বিভাগ, ক্যানসার ও হৃদরোগ চিকিৎসা ইউনিটসহ আধুনিক ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও সহায়তা কর্মী থাকবেন, যেন উত্তরবঙ্গসহ দেশের মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন। হাসপাতালটি সাধারণ চিকিৎসা থেকে শুরু করে বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদানে সক্ষম হবে। অঙ্কোলজি (ক্যানসার), কার্ডিওলজি (হৃদরোগ), নেফ্রোলজি (কিডনি) ও ডায়ালাইসিসের সুবিধা থাকবে, যেখানে ২০০টি ডায়ালাইসিস যন্ত্র থাকবে।
বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানুষকে রাজধানী বা বড় শহরে যেতে হয়, যা সময় ও খরচ উভয় দিকেই বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন হাসপাতালটি চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষ ঘরে বসেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবেন।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা
হাসপাতাল নির্মাণ এলাকার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বেকারত্ব কমবে এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। হাসপাতালের আশপাশে ফার্মেসি, হোটেল, আবাসিক বাসা ও অন্যান্য ব্যবসা দ্রুত বিকাশ করবে। পাশাপাশি নতুন সড়ক, বিদ্যুৎ সংযোগ, ড্রেনেজ ও নিরাপত্তা কাঠামো উন্নত হবে।
দেশব্যাপী রোগী ও পর্যটক আগমন
হাসপাতালটি ১০০০ শয্যা ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী ও পর্যটক আকর্ষণ করবে। দক্ষ চিকিৎসক ও সাশ্রয়ী খরচে এটি উত্তরাঞ্চলের বড় চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হবে। এতে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রোগীদেরও উন্নত চিকিৎসা পাওয়া সহজ হবে।
সুবিধাজনক যোগাযোগ ব্যবস্থা
হাসপাতালটি দারোয়ানি টেক্সটাইল এলাকার সড়ক পথে সৈয়দপুর থেকে নীলফামারী আঞ্চলিক মহাসড়কের কাছাকাছি অবস্থিত হবে। ফলে রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট থেকে সরাসরি সড়কপথে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসার সুযোগ থাকবে। রেলপথে ঢাকার সঙ্গে হাসপাতালের যোগাযোগ রয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
প্রভাষক শিউলি বেগম বলেন, “উত্তরবঙ্গের নীলফামারীতে চীনের এই হাসপাতাল আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। হাতের নাগালেই উন্নত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে, যা সারা দেশের মানুষের জন্য উপকারী।”
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “হাসপাতালটি এলাকায় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আনবে। উন্নত চিকিৎসা সেবা পেয়ে আমরা নিরাপদে থাকব।”
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেল বলেন, “হাসপাতালটি এলাকার স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করবে এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।”
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, ডিজিটাল সার্ভেয়ার ও মাস্টারপ্ল্যান কাজ শেষের পর দ্রুত হাসপাতালের নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে। হাসপাতালটি চালু হলে উত্তরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
