নতুন গবেষণা
সূর্যের প্লাজমা ও পৃথিবীর প্লাজমা মিশে যেতে পারে
বিজ্ঞান ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:২৫, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
পৃথিবীর সুরক্ষা-বলয় ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের কাছেই ঘটছে এক ব্যতিক্রমী ও রহস্যময় পরিবর্তন—যা এতদিন শুধু সূর্যের কাছেই দেখা গিয়েছিল।
নাসার চারটি মহাকাশযান নতুন পর্যবেক্ষণে প্রথমবারের মতো শনাক্ত করেছে এক ম্যাগনেটিক সুইচব্যাক—চৌম্বকক্ষেত্রে হঠাৎ জিগজ্যাগ ধরনের পাক।
এমন বিকৃতি এতদিন কেবল সূর্যের কাছে নাসার পারকার সোলার প্রোব দেখেছিল। কিন্তু এবার সেই অস্বাভাবিক ঘটনাই ধরা পড়েছে পৃথিবীর সুরক্ষা-বলয়ের ধারেও। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক নাসা ও মহাকাশবিজ্ঞানীরা।
নাসার ম্যাগনেটোস্ফেরিক মাল্টিস্কেল মিশন (এমএমএস) —চার-যানবিশিষ্ট এই বিশেষ মিশনটি ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের ঠিক বাইরের অশান্ত অঞ্চল ম্যাগনেটোশিথে একটি স্পষ্ট সুইচব্যাক রেকর্ড করে।
এই অঞ্চলেই সূর্য বায়ু পৃথিবীর চৌম্বক ঢালের পাশ দিয়ে তীব্র বেগে বয়ে যায়।
এমএমএসের মিলিসেকেন্ড-সেন্সিটিভ সেন্সর
চারটি যান একসঙ্গে ত্রিমাত্রিকভাবে ডেটা সংগ্রহ
ঘটনাটি রেকর্ড করা হয়েছে লাইভ অবস্থায়
গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নিউ হ্যাম্পশায়ার এর পদার্থবিজ্ঞানী ই. ও. ম্যাকডুগাল। তার গবেষণার প্রধান বিষয়—চৌম্বক পুনঃসংযোগ, প্লাজমার আচরণ এবং সুইচব্যাকের জন্ম।
সুইচব্যাক আসলে কী?
সুইচব্যাক হলো চৌম্বক রেখার হঠাৎ পাক খাওয়া—
একদিকে সরে গিয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসা।
সূর্যের কাছে এটি সাধারণ ঘটনা। কিন্তু পৃথিবীর কাছে এই পাক ধরার বিষয়টি বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে।
পৃথিবীর কাছে ধরা পড়া ঘটনাটিতে দেখা যায়—
উচ্চ-শক্তির ইলেকট্রন
একটি সক্রিয় কারেন্ট শিট
তীব্র ম্যাগনেটিক রিকনেকশন
১.২ মাত্রার গাইড ফিল্ড
এবং জেট-প্যারামিটার ০.৫–এর ওপরে—যা নিশ্চিত করে এটি প্রকৃত সুইচব্যাক
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
এই চৌম্বকীয় পাক সূর্যের প্লাজমা ও পৃথিবীর প্লাজমাকে মিশিয়ে দিতে পারে।
ফলাফল—উচ্চ বায়ুমণ্ডলে শক্তির প্রবাহে দ্রুত পরিবর্তন।
এর প্রভাব পড়তে পারে—
স্যাটেলাইটের কার্যকারিতায়
রেডিও যোগাযোগে
নেভিগেশন সিস্টেমে
পৃথিবীর বিদ্যুৎ গ্রিডে
মহাকাশ আবহাওয়ার মডেল আরও উন্নত করতে এখন এই ডেটা নিয়ে কাজ করছে বিজ্ঞানীরা। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের সৌরঝড়ের প্রভাব আরও নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।
সূর্য ও পৃথিবী—একই রহস্যে বাঁধা?
নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে—সূর্যের কাছে দেখা সুইচব্যাক এবং পৃথিবীর কাছের সুইচব্যাক একই ধরনের প্রক্রিয়ায় তৈরি হতে পারে।
এটি মহাকাশ-প্লাজমার গতিবিধি বোঝার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
