মঙ্গলে ‘অপ্রত্যাশিত’ লোহা-নিকেল পাথর!
বিজ্ঞান ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:০৮, ২০ নভেম্বর ২০২৫
মহাকাশ গবেষণায় এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন মাত্র একটি ছবি বিজ্ঞানীদের সব হিসাব বদলে দিতে পারে। নাসার পারসিভারেন্স রোভার ঠিক এমনই এক বিস্ময়কর শিলা আবিষ্কার করেছে মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটারে—যার গঠন, রং এবং অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে এটি মোটেও ‘সেখানে থাকার কথা নয়’। প্রাচীন হ্রদের তলদেশে সাধারণত যে ধরনের শিলা পাওয়া যায়, তার সঙ্গে পাথরটির বিন্দুমাত্র মিল নেই।
নাসা জানায়, গত সপ্তাহে রোভারটি শিলাটি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে। গবেষকেরা দেখেন—এটি আশপাশের সকল শিলার তুলনায় ভিন্ন রূপ ও গঠনের। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফিপ্পসাক্সলা’।
রোভারের সুপারক্যাম লেজার ও স্পেকট্রোমিটার পরীক্ষায় দেখা গেছে—পাথরটিতে লোহা ও নিকেলের ঘনত্ব খুব বেশি। মঙ্গলের স্থানীয় ভূত্বকে এই উপাদানগুলি অত্যন্ত বিরল হলেও বৃহৎ গ্রহাণুর কেন্দ্রে তৈরি হওয়া উল্কাপিণ্ডে এগুলি সাধারণত পাওয়া যায়।
নাসার ভাষায়—“উপাদানগুলোর সংমিশ্রণ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়, শিলাটি সৌরজগতের অন্য কোথাও গঠিত।”
অর্থাৎ, পাথরটি মঙ্গলের নয়—বরং বহু দূরবর্তী স্থানে তৈরি হয়ে অতীতে গ্রহের পৃষ্ঠে পতিত হয়েছে।
ডেস্ক-সাইজের শিলাটি সমতল, খণ্ডিত শিলার মধ্যে একা দাঁড়িয়ে আছে—যা আরও রহস্য বাড়াচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিশ্চিতভাবে উল্কাপিণ্ড ঘোষণার আগে আরও বিশদ বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
গেইল গর্তে কিউরিওসিটি রোভার ২০১৪ সালে ‘লেবানন’ এবং ২০২৩ সালে ‘কাকাও’ নামের লোহা-নিকেল উল্কাপিণ্ড শনাক্ত করেছিল।
কিন্তু পারসিভারেন্স এতদিন জেজেরোতে তেমন কিছু খুঁজে পায়নি—তাই ফিপ্পসাক্সলাকে বলা হচ্ছে ‘অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার’।
এখন নাসার লক্ষ্য—পাথরটি নমুনা সংগ্রহের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কি না তা নির্ধারণ করা।
যদি শিলাটি জেজেরো অঞ্চলের বাকি অংশের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন উৎস থেকে আসে, তাহলে এটি ভবিষ্যতের মারস্ স্যাম্পল রিটার্ন মিশনের জন্য ‘বিশেষ নমুনা’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
পরবর্তী ধাপে রোভারটি আশপাশে একই রকম আরও শিলা আছে কি না তার মানচিত্র তৈরি করবে। মাইক্রোস্কোপিক বিশ্লেষণে জানা যাবে—পাথরটির আকৃতি প্রভাব, তাপ, জল বা বায়ুমণ্ডল কোন উপাদানের কারণে গঠিত হয়েছে।
নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন—“মঙ্গলে এমন একটি পাথর পাওয়া, যার সেখানে থাকার কথা নয়—এটাই প্রমাণ করে যে লাল গ্রহ এখনও অসংখ্য রহস্য লুকিয়ে রেখেছে।”
জেজেরো ক্রেটারে নিঃশব্দে পড়ে থাকা এই পাথরটি ভবিষ্যতে মঙ্গলের জলপ্রবাহ, প্রাচীন জলবায়ু এবং গ্রহীয় পদার্থের উৎপত্তি সম্পর্কে অমূল্য তথ্য উন্মোচন করতে পারে।
