ডিএনএর গঠন আবিষ্কারক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন মারা গেছেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:৪৮, ৮ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২২:১৯, ৮ নভেম্বর ২০২৫
জেমস ওয়াটসন। ছবি: কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরির সৌজন্যে
চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটানো যুগান্তকারী আবিষ্কারের অন্যতম নায়ক, নোবেলজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন আর নেই। ডিএনএর দ্বি-সর্পিল গঠন আবিষ্কারের মাধ্যমে যিনি জেনেটিক্স ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।
আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।
ওয়াটসনের মৃত্যু হয়েছে হসপিস কেয়ারে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তার সাবেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরি।
যুগান্তকারী আবিষ্কার
১৯৫৩ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে ওয়াটসন তার সহকর্মী ফ্রান্সিস ক্রিক ও মরিস উইলকিন্সের সঙ্গে ডিএনএর দ্বি-সর্পিল গঠন আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কার বিজ্ঞান জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে—কোষের ভেতর কীভাবে জিনগত তথ্য সংরক্ষিত থাকে এবং প্রজন্মান্তরে অনুলিপি হয়, তা স্পষ্ট হয়ে যায়।
এই অসামান্য সাফল্যের জন্য ১৯৬২ সালে ওয়াটসন, ক্রিক ও উইলকিন্স যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত
ডিএনএর গঠন আবিষ্কারের ফলে আধুনিক জীববিজ্ঞান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বংশগতি গবেষণা, এমনকি অপরাধ তদন্তেও এক বিপ্লব ঘটে।
মানবদেহের জিনগত নকশা বুঝতে এই আবিষ্কার ছিল মানব জিনোম প্রকল্পের প্রাথমিক ভিত্তি।
জীবন ও কর্ম
১৯২৮ সালের ৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে জন্ম নেওয়া ওয়াটসন কৈশোর থেকেই জীববিজ্ঞানে আগ্রহী ছিলেন।
১৯৫১ সালে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ফ্রান্সিস ক্রিকের সঙ্গে পরিচিত হন—যে বন্ধুত্বই পরবর্তীকালে বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক সহযোগিতায় পরিণত হয়।
পরে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরিতে অধ্যাপনা করেন এবং পরবর্তী সময়ে মানব জিনোম প্রকল্পের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেন।
ডিএনএর গঠন উন্মোচনের পর ওয়াটসনের নাম আধুনিক বিজ্ঞানচর্চায় চিরঅমর হয়ে আছে। তার আবিষ্কার শুধু বিজ্ঞান নয়, মানবসভ্যতার জ্ঞানভান্ডারেও এক বিশাল অবদান হিসেবে থেকে যাবে।
