ফ্রান্সে কোরআন অবমাননা, মুসলিম কাউন্সিলের গভীর উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:০৮, ২ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৮:১৪, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
দক্ষিণ ফ্রান্সের লা গ্র্যান্ড-কম্বে একটি মসজিদের বাইরে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। ছবি: এএফপি
ফ্রান্সের একটি মসজিদে গিয়ে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় ফরাসি মুসলিম কাউন্সিল গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই জঘন্য কর্মকাণ্ডে ফ্রান্সের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। এটি কেবল মসজিদে গিয়ে আক্রমণ নয়, বরং এটি ইসলামোফোবিয়ার একটি গুরুতর বহিঃপ্রকাশ, যা সমাজে ঘৃণার জন্ম দিচ্ছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের লে পুই-এন-ভেলে এলাকায় অবস্থিত মসজিদে এক ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশ করে। সে পবিত্র কোরআন শরিফের একাধিক কপি ছিঁড়ে মেঝেতে ফেলে দেয়, যা চরম অবমাননাকর।
ফরাসি মুসলিম কাউন্সিল এই ঘটনায় এক্সে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করে, ‘ফ্রান্সের মুসলিমরা কোরআন অবমাননার ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। লে পুই-এন-ভেলের একটি মসজিদে দিন-দুপুরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা কোরআন শরিফ ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছে।’
এই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও তারা গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, একটি বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই ধরনের পরিবেশে ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংগঠনটি আরও জোরালোভাবে বলেছে, ‘এটি একটি গুরুতর ইসলামোফোবিক কার্যকলাপ। এটি এমন এক ঘৃণার প্রতিফলন, যাকে কোনোভাবেই কম গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।’
শুধু এই ঘটনাই নয়, গত বুধবার তুর্কি-মুসলিম সংগঠন ডিআইটিআইবির সঙ্গে যুক্ত মন্ট্রিয়ল-লা-ক্লুজ কালচারাল সেন্টারও আক্রমণের শিকার হয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের ডাকবাক্সে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া একটি বুলেট পাওয়া গেছে।
মন্ট্রিয়ল-লা-ক্লুজের এই সংস্থাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া বিবৃতিতে লিখেছে, ‘আমরা আমাদের সংস্থার ডাকবাক্সে একটি বুলেট পেয়েছি, যা সম্ভবত আগ্নেয়াস্ত্র থেকে এসেছে। মন্ট্রিয়ল-লা-ক্লুজের তুর্কি জনগোষ্ঠী এবং সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থানের অনুশীলনের ওপর লক্ষ্য করে চালানো এই আক্রমণের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।’
তারা আরও উল্লেখ করে, এই আক্রমণের ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ ছিল একত্রে বসবাস করার অনুশীলনকে দুর্বল করা এবং এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ব্যাহত করা।
সংস্থাটি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে, ‘একটি সংস্থা হিসেবে আমরা সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে এই বিষয়টির সুরাহা করব।’
এই ধরনের ইসলামবিদ্বেষী ঘটনা ফ্রান্সের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। মুসলিম সংস্থাগুলোর মতে, কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই ঘৃণা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্স সরকারকে অবশ্যই ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি রক্ষায় সচেতন উদ্যোগ নিতে হবে।
