আলেম-ওলামাদের মেহনত ব্যর্থ হয়নি: ধর্ম উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০:৪৯, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
বক্তব্য দিচ্ছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। ছবি: সমাজকাল
আলেম-ওলামাদের মেহনত ব্যর্থ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘৫৪ বছর ধরে নিপীড়ন, নির্যাতন, নিগ্রহের পরেও ইসলামি শক্তি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছে। পূর্ব দিগন্তে নতুন সূর্য উঁকি দিচ্ছে, ওঠা বাকি মাত্র। এখন আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে’।
সোমবার (সন্ধ্যায়) রাজধানীর জাতীয় যাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে 'মুসলিম পারিবারিক আইন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ' শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা। ১৯৬১ সালের ওই মুসলিম পারিবারিক আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ আইনের অনেক ধারা সরাসরি ইসলামী শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক। সে সময় যারা ওলামায়ে কেরাম ছিলেন তারা এ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করেছেন। কিন্তু তারা পারেননি। তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান অনেকটা গায়ের জোরে এই আইন পাস করেন’।
বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এ বি এম মাহবুবুল ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম ও প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।
হিল্লা বিয়ে শরিয়তে হারাম উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন, তালাকের যথেচ্ছ ব্যবহার হয়ে থাকে। স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর বাচ্চারা কাঁদে, স্বামী কাঁদে। তালাক দেওয়া স্ত্রীকে আবার ফিরিয়ে আনতে চায়। এসময় এ ক শ্রেণির মানুষ শরিয়তের অপব্যখ্যা দিয়ে নারীদেরকে হিল্লা বিয়ে দেওয়ার পায়তারা চালান। এটি নারীর প্রতি অবমাননাকর এবং এতে ইসলামের ওপর আঘাত আসে বলেও উল্লেখ করেন ধর্ম উপদেষ্টা।
'আমরা কিভাবে দণ্ড আরোপ করি'- এ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘ইসলামি শরিয়তে দণ্ডবিধি আরোপের ক্ষমতা কোনো আলেম কিংবা মুফতির নেই। তারা কেবল ফতোয়া দেবেন, কুরআন-হাদীসের বর্ণনা তুলে ধরবেন। বিচার করবেন আদালত। আদালতের রায় কার্যকর করবে প্রশাসন’। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।
শরিয়াহ আইন প্রচলনের দাবির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ দাবি ৫৪ বছর ধরে করে এসেছি। দাবি জানাতে কোনো আপত্তি নেই। তবে যতোদিন পর্যন্ত সংসদের অধিকাংশ আসন শরিয়ত মেনে চলা মানুষ দিয়ে ভর্তি না হবে, ততোদিন দাবি জানিয়ে কোনো লাভ হবে না। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রজেক্টের দিকে আমাদের এগোতে হবে। শুধু এক বা দু'জনকে দিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন সম্ভব নয়’।
সেমিনারে অংশ নেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণী-পেশার নাগরিকরা।
