যুক্তরাষ্ট্রে নামাজের সময় উত্ত্যক্ত করায় গ্রেপ্তার ২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:২৮, ২২ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২১:৩৪, ২২ নভেম্বর ২০২৫
ছবি: ডব্লিউইউএসএফ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে নামাজরত মুসলিম শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত ও হেনস্তা করার অভিযোগে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পার্কিং গ্যারেজের ছাদে মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। সে সময় তিনজন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে চিৎকার করে অপমানজনক কথা বলতে থাকে এবং ভিডিও ধারণ করতে শুরু করে।
পুলিশ গত শুক্রবার নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনায় টেক্সাসের ক্রিস্টোফার সভোচাক এবং ওকলাহোমার রিচার্ড পেনসকোস্কি নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ধর্মীয় সমাবেশে বাধা প্রদান এবং আইনানুগ জনসমাগমে বিঘ্ন ঘটানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত নয়। প্রশাসন তাদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ট্রেসপাস অর্ডার জারি করেছে। ওয়ারিয়র্স ফর ক্রাইস্ট নামের একটি গোষ্ঠী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি লাইভস্ট্রিম করেছিল। সাউদার্ন পভার্টি ল সেন্টার এই গোষ্ঠীকে একটি ঘৃণাবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তৃতীয় আরেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবু তাহির সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি পায়ের শব্দ শুনে বুঝতে পেরেছিলেন কেউ তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের বিদ্রূপাত্মক আচরণে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং আশঙ্কা করছিলেন, হামলাকারীদের কাছে অস্ত্র থাকতে পারে। ভিডিওগুলো পুনরায় দেখার সময় তিনি সেই মানসিক ট্রমা আবার অনুভব করেন। তবুও মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তারা নামাজ শেষ করেন।
স্টুডেন্ট লিডাররা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সময় তাদের সুরক্ষায় বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসের কোনো কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। তারা অবিলম্বে নামাজের জন্য একটি নিরাপদ ও সংরক্ষিত স্থানের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে পুলিশি টহল বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ধর্মীয় নেতারা এই হীন কর্মের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে এই নয় যে, কেউ অন্যের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করবে। তদন্ত চলতে থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মামলাটি স্টেট অ্যাটর্নি অফিসে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সূত্র: ডব্লিউইউএসএফ
