মসজিদে নববীর জুমার খুতবা
ক্ষণস্থায়ী জীবনের মোহ ত্যাগের আহ্বান
সমাজকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:০৩, ২১ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২৩:০৮, ২১ নভেম্বর ২০২৫
মসজিদে নববীতে জুমার নামাজের খুতবা দিচ্ছেন শায়েখ সালাহ আল-বুদাইর। ছবি: ওয়াকালাতুল আম্বাইস সুয়ুদিয়্যাহ
মদিনার পবিত্র মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়েখ ড. সালাহ আল-বুদাইর আজকের জুমার খুতবায় মানুষকে ক্ষণস্থায়ী জীবনের মোহ ত্যাগ করে পরকালের পাথেয় সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন। আজকের খুতবার মূল প্রতিপাদ্য মৃত্যুর স্মরণ এবং মহান আল্লাহর দরবারে তওবা।
শায়েখ সালাহ আল-বুদাইর সমবেত মুসল্লিদেরকে এই নশ্বর পৃথিবীর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মৃত্যু এক সুনিশ্চিত ও অনিবার্য সত্য। তাই সকলকে ফরজ ইবাদতগুলো নিয়মিত আদায়, পাপ কাজ থেকে দূরে থাকা এবং মহান আল্লাহর কাছে তওবা করার উপদেশ দেন।

মসজিদে নববীতে জুমার নামাজের আজান দিচ্ছেন মুয়াজ্জিন। ছবি: ওয়াকালাতুল আম্বাইস সুয়ুদিয়্যাহ
তিনি দুনিয়াকে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদের ক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দুনিয়ার আনন্দ ক্ষণস্থায়ী এবং এর চাকচিক্য ধ্বংসশীল। এর সুখের স্থায়িত্ব নেই এবং এর বিপদ কখনোই শেষ হয় না।
তিনি দুনিয়ার এই ভঙ্গুর অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, এটি এমন এক ঘর, যা প্রতিনিয়ত বিপদ ও দুর্যোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়। মৃত্যু এখানে তার তরবারি উন্মুক্ত করে রেখেছে এবং সবার জন্য মরণফাঁদ পেতে রেখেছে। যে আজ মারা যায়নি আগামীকাল তাকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।

মসজিদে নববীতে জুমার খুতবা শোনছেন মুসল্লিরা। ছবি: ওয়াকালাতুল আম্বাইস সুয়ুদিয়্যাহ
শায়েখ সালাহ আল-বুদাইর মুসল্লিদের স্মরণ করিয়ে দেন, দুনিয়াতে সৃষ্টিজীবের শেষ পরিণতি হলো মৃত্যু ও বিনাশ। তিনি আবেগময় কণ্ঠে প্রশ্ন করেন, কোথায় আজ আমাদের সেই অন্তরঙ্গ বন্ধুরা এবং কোথায় আমাদের সেই সহচররা? মৃত্যু তাদের ছিনিয়ে নিয়েছে।
তিনি পাপ ও উদাসীনতায় ডুবে থাকা মানুষদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা যেন বাবা-মা ও ভাই-বোনদের কবর দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে। তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অনুধাবন করতে বলেন সেখানে কত মানুষ শুয়ে আছে।
শায়েখ সালাহ আল-বুদাইর মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকার এবং দুনিয়ার মোহে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুনিয়ার সাজসজ্জা যেন মানুষকে ধোঁকা না দেয় এবং শয়তানের প্ররোচনা যেন কাউকে পথভ্রষ্ট না করে। যারা পাপে লিপ্ত হয়েছে তাদের কালক্ষেপণ না করে দ্রুত তওবা ও ইস্তেগফার করার পরামর্শ দেন।
