দেশজুড়ে বিএনপির ১৬ দিনের বিজয়ের মশালযাত্রা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১:৪৮, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২১:৫৯, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। ফাইল ছবি
মহান বিজয়ের মাস উপলক্ষে সারা দেশে ১৬ দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। ‘বিজয়ের মাসে বিজয়ের মশাল’ শীর্ষক এই বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলটি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বিশাল মশালযাত্রা শুরু করবে।
শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি জানান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে এবং স্বাধীনতার পক্ষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতেই এ আয়োজন। ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেবেন একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, ২০২৪ সালের জুলাইযোদ্ধারা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
মির্জা ফখরুল বলেন,“দেশ ও জনগণের বিজয়ের এই আনন্দঘন উপলক্ষকে আরও বর্ণিল ও অর্থবহ করতে, আলোচনাসভা ও বিজয়ের রোড শোসহ সারা দেশে মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি। ১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর চলবে ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’।’’
তিনি আরও বলেন,“১৯৭১ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যয়ে চট্টগ্রাম থেকে শুরু হবে মশালযাত্রা।”
১৬ দিনব্যাপী ‘বিজয়ের মশালযাত্রা’
১ ডিসেম্বর: চট্টগ্রাম—কুমিল্লা যাত্রা শুরু :চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু
একই দিন বিপ্লব উদ্যানে পৌঁছবে মশাল। মশাল বহন করবেন একজন মুক্তিযোদ্ধা ও একজন জুলাইযোদ্ধা।
সেখান থেকে কুমিল্লার পথে যাত্রা।
২ ডিসেম্বর: কুমিল্লা সমাবেশ , এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া–হবিগঞ্জ হয়ে সিলেট যাত্রা।
৪ ডিসেম্বর: সিলেটে জনসমাবেশ, সেখান থেকে কিশোরগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহ।
৬ ডিসেম্বর: ময়মনসিংহ সমাবেশ। ময়মনসিংহ থেকে টাঙ্গাইল–সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়া।
৮ ডিসেম্বর: বগুড়ায় বিজয়ের মশাল সমাবেশ, এরপর গাইবান্ধা হয়ে রংপুর।
৯ ডিসেম্বর: রংপুর সমাবেশ, রংপুর থেকে নওগাঁ হয়ে রাজশাহী।
১০ ডিসেম্বর: রাজশাহীতে সমাবেশ, সেখান থেকে কুষ্টিয়া–ঝিনাইদহ হয়ে খুলনা।
১২ ডিসেম্বর: খুলনায় সমাবেশ, পরদিন খুলনা থেকে বাগেরহাট–পিরোজপুর–ঝালকাঠি হয়ে বরিশালে পৌঁছবে।
১৩ ডিসেম্বর: বরিশালে সমাবেশ।বরিশাল থেকে মাদারীপুর হয়ে ফরিদপুর।
১৪ ডিসেম্বর: ফরিদপুর সমাবেশ। এরপর ভাঙ্গা–মুন্সিগঞ্জ–নারায়ণগঞ্জ হয়ে রাজধানীর পথে।
১৬ ডিসেম্বর: ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে চূড়ান্ত বিজয় সমাবেশ। বিজয়ের মশালযাত্রার মহাসমাপ্তি হবে ১৬ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে।
কর্মসূচির প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাইযোদ্ধা মশাল বহন করবেন।এছাড়াও কর্মসূচিতে যা থাকবে-মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শন , জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধের গান ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন, স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ প্রচার।
থাকবে- জাসাসের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী। বিএনপির ঘোষিত ‘৩১ দফা’ তুলে ধরা
পুরো আয়োজনের থিম সং: ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মির্জা ফখরুল বলেন, “শহীদদের স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়েই এবারের বিজয় দিবস”।
তিনি বলেন,“১৯৭১ থেকে ২০২৪—বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ শহীদ হয়েছেন। তাদের স্বপ্ন ছিল একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। এবারের বিজয় দিবসের প্রত্যয় হোক সেই স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার।”
আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“এ নির্বাচন স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের সামনে এক বিশাল সুযোগ—শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।”
