পৃথিবীর কী এমন ক্ষতি হয়ে যাবে, যদি তারেক দেশে এসে মায়ের হাতটি ধরে কিছুক্ষণ দাঁড়ান
প্রকাশ: ২১:৪৩, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ইমতিয়াজ মাহমুদ
মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পিতার মৃত্যুর সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন না। তাঁর দাফন কাফনের সময়ও আরাফাত ঢাকায় আসতে পারেননি। নুরুল মজিদ হুয়াম্যুনের মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায় যোগ দিতে পারেননি তাঁর পুত্র। বেগম খালেদা জিয়া জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন। তাঁর পুত্র ফেসবুকে লিখেছেন যে, তিনি দেশে আসবেন কি আসবেন না সেই বিষয়ে ‘একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।’ কারা এইসব নির্ধারণ করে? কে সিদ্ধান্ত নেয়?
পিতা বা মাতার মৃত্যুর সময় পাশে থাকতে পারা, বা সেটা না পারলেও অন্তত শেষকৃত্যের সময়ও যেন পাশে থাকতে পারে একজন সন্তানকেই সেই সুযোগটা আমরা দিতে পারছি না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য তো আমাদের মধ্যে আছেই- এ তো থাকবেও আরও অনেক কাল ধরে। এইরকম করুণ পরিস্থিতিগুলির যাতে উদ্ভব না হয় সেইটা কি আমরা নিশ্চিত করতে পারি না! আমি পিতাকে হারিয়েছি অনেক বছর হয়ে গেছে। মা গেলেন সেও বেশ কয়েক বছর হয়ে গেলো। আরাফাত, নুরুল মজিদ হুমায়ূনের পুত্র আর তারেক রহমান এদের অনুভূতি আমি জানি।
আমার নিজেরও বয়স হয়েছে। আমার বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছে। মৃত্যুর আগে আমিও সম্ভবত কাতর হয়ে চাইব সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বিদায় নিতে। না ভাই, কোনো রাজনৈতিক আলাপ নয়, কোনো তর্কও করতে বসিনি। তারেক রহমানের ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ কে করবেন জানি না, পৃথিবীর কী এমন ক্ষতি হয়ে যাবে, যদি তারেক একবার দেশে এসে মায়ের পাশে মায়ের হাতটি ধরে কিছুক্ষণ দাঁড়ায়। কিছুদিন পর থেকে আমরা না হয় আবার তারেককে ও বেগম জিয়াকে তীব্র সমালোচনায় ছিঁড়ে খুঁড়ে ফেলব।
এইখানে আমি তো আরাফাত আর তারেকের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখি না। আহা, আমার দুঃখী দুই ভাই।
