দেশে চাঁদাবাজির নতুন ট্রেন্ড!
প্রকাশ: ১৬:১৯, ২৮ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৯:৪৪, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
আরিফ জেবতিক
প্রথম আলো একটি নিউজ করেছে। শিরোনাম দিয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে গান বাজানোয় সালিস ডেকে কনের বাবা, মা, ভাইকে বেত্রাঘাত। শিরোনামটি পড়লে মনে হবে, সরকার সমর্থিত মববাহিনী গিয়ে বোধহয় গানবাজনা বন্ধ করে দিয়ে বেত্রাঘাত করে এসেছে। মানে ইউনূস সরকারের ফার রাইট পোষ্যদের রুটিন কাহিনী, যা প্রতিদিন এখানে ওখানে ঘটেই চলছে।
কিন্তু খবরটি পড়লে দেখা যাবে, এখানে গানবাজনা আসলে উসিলা। খবরের চুম্বক অংশ হলো, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের পর ডাকা হয়েছিল সালিস। স্থানীয় যুবদলের এক নেতা এ সালিস ডাকেন। পরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও এতে অংশ নেন। সে সালিসেই কনের বাবা, মা ও ভাইকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ওই সালিসে কনের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় কনের ভগ্নিপতির অটোরিকশা আটক করা হয়।'
মানে এখানে বিএনপি নেতারা এই উপলক্ষে ৫০ হাজার টাকার ধান্দা করে ফেলেছেন। এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, বিএনপির তৃণমূলের একটি অংশ নিয়মিত মাথা খাটিয়ে চিন্তা করে বের করছে আর কী কী উপায়ে নতুন করে টাকা-পয়সা রোজগার করা যায়। আরেক খবরে দেখলাম, এক বিএনপি নেতার পুত্র, যে নিজেও ছাত্রদলের সাবেক নেতা, সে আরেকজনের জাহাজ ভাড়ায় এনে সেই জাহাজ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। তুখোড় ক্রিয়েটিভিটি।
সে যাকগে, এখন এই বিয়ের ঘটনায় ফিরি। মূল ধান্দা হলো, ৫০ হাজার টাকা কামাই করা। একজন তার মেয়ের বিয়েতে গান বাজাবে, নাকি নাচবে, কি মিলাদ শরিফ দিবে, সে জন্য তাকে বেত্রাঘাত করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা স্রেফ গুন্ডামি।
আমাদের চোখের সামনে দেশের অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। এর মাঝে একটি হচ্ছে, হিজড়াদের হামলা। আমাদের ছোটবেলায় এসব কখনো দেখিনি। এখন সারাদেশে সংঘবদ্ধ হিজড়া বাহিনী বের হয়েছে। সিলেটে বরযাত্রী নিয়ে যেতে হলে এদের বকশিশ দিতে হয়। কয়েক হাজার টাকা বকশিশ না দিলে নাকি গাড়ির সামনে থেকে সরে না, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। অনেক মধ্যবিত্ত এখন হিজড়াদের ভয়ে বরের গাড়ি সাজানো বাদ দিয়ে দিয়েছেন। চুপিচুপি বরযাত্রী নিয়ে যান।
একই ঘটনা ঢাকা শহরেরও কিছু অঞ্চলে। আমার এক কাজিন বনশ্রী থাকে, নতুন বাচ্চা হয়েছে। ওর বাড়িওয়ালি এসে ওকে বলে গেছেন, ‘মা, বাচ্চার কাপড়-চোপড় সামনের বারান্দায় শুকাতে দিও না, হিজড়ারা দেখলে চাঁদার দাবিতে বাড়ি ঘেরাও করে ফেলবে।'
দেশে গত কয়েক বছরে এতো হিজড়া বেড়ে যাওয়ার কথা না। শুনেছি, পুরুষ মানুষ শাড়ি পরে হিজড়া সাজে আজকাল। ইজি মানি। কারো বাড়ির সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ চেঁচামেচি করে হাততালি দিলেই কয়েক হাজার টাকা রোজগার। দেশে চাঁদাবাজির ট্রেন্ডটাও ওদিকে যাচ্ছে।
লেখক: অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
* মতামত লেখকের নিজস্ব
