সহিংস উপায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের ঘটনাগুলো আসলে কী?
প্রকাশ: ১৮:০১, ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২১:০৫, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
আজিজুর রহমান আসাদ
বাউল বা মারেফতি ঘরানার ওপর আক্রমণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সহিংস উপায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার ঘটনাগুলো আসলে কী? এর সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য কী? এগুলো হচ্ছে একটি ব্রডার ‘কালচারাল জেনোসাইড’ বা সাংস্কৃতিক গণহত্যার অংশ। বিশেষ করে বাংলাদেশে বাঙালি ও আদিবাসীদের ওপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও গণহত্যা চালানো হচ্ছে।
কালচারাল জেনোসাইড বা সাংস্কৃতিক গণহত্যা বলতে কী বোঝায়? একটি জাতিগোষ্ঠী (বাঙালি, আদিবাসী), সম্প্রদায় বা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ভাষা, লোকধর্ম, ঐতিহ্য, শিক্ষা, জীবনযাপন পদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়—এই সবকিছুই পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা।
সাংস্কৃতিক গণহত্যা চালানো হয় নানা উপায়ে
১. ভাষা বিলুপ্ত ও বিকৃত করার প্রচেষ্টা। মাতৃভাষা, সৃজনশীল (গান কবিতা) ও বিজ্ঞান পরিভাষা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বা নিরুৎসাহিত করা। স্কুল/মাদ্রাসায় জোরপূর্বক অন্য ভাষা চাপিয়ে দেওয়া।
২. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ও সহিংসতা পরিচালনা করা। উপাসনালয় ভাঙচুর বা অনুষ্ঠান আয়োজনে বাধা দেওয়া। ঐতিহ্যবাহী পোশাক বা আচার নিষিদ্ধ করা।
৩. ইতিহাস ও পরিচয় পরিবর্তন করা। শিশু সন্তানদের নাম বদল। পাঠ্যপুস্তক বা মিডিয়ায় তাদের ইতিহাস বিকৃত করা। সাংস্কৃতিক প্রতীক দখল বা ধ্বংস করা।
৪. শিশুদের জোরপূর্বক বা কৌশলে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা। আদিবাসী বা সংখ্যালঘু শিশুদের পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে অন্য সংস্কৃতিতে বড় করা।
৫. সাংস্কৃতিক স্থাপনা ধ্বংস করা। মন্দির, মাজার, মঠ, কবরস্থান, ভাষাকেন্দ্র, লাইব্রেরি ইত্যাদি বিনষ্ট করা, দখল করা ও বাইরের সংস্কৃতি (বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মরুসংস্কৃতি) আমদানি ও প্রতিষ্ঠা করা।
সাংস্কৃতিক গণহত্যা প্রতিরোধ করতে হলে, শুধু রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্যোগ প্রয়োজন। ব্যক্তি হিসেবে আপনার নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা ও জাতীয় পরিচয় রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
লেখক: গবেষক
* মতামত লেখকের নিজস্ব
