বিসিএসের পেছনে ছুটতে গিয়ে যৌবন বিসর্জন!
প্রকাশ: ২০:৪৭, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০১:৪৮, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
শেখ আদনান ফাহাদ
এমন একটা রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিসিএস নিয়ে কখনো অস্বাভাবিক আকর্ষণ বা চাপ মোকাবিলা করবে না। সব পেশাকেই শিক্ষার্থীরা সম্মানজনক হিসেবে বরণ করে নিতে চাইবে। এভাবে আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরির পরীক্ষা ঠিকভাবে দিতে চেয়ে রাস্তাঘাটে মার খাবে, নিজের দেহে আগুন লাগিয়ে দিতে চাইবে! এসব দৃশ্য দেখে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। আমার এই চাওয়া বাস্তবায়ন সম্ভব তবে অনেক কঠিন। কারণ রাষ্ট্রের মূল মালিক মন্ত্রী/উপদেষ্টা আর সচিবগণ।
শুধু বিসিএসকে আকর্ষণীয় করতে গিয়ে বেসরকারি খাত নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এমএ পাস একজন শিক্ষার্থী কেন ২০/২৫ হাজার টাকায় বেসরকারি জব শুরু করবে? আমাদের বিভাগের ছেলে-মেয়েরা সাংবাদিকতায় আসতেই চায় না। যারা এসেছে তারা সবাই ভালো নাই। তবে যারা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় গেছে তারা কিন্তু বেশ ভালো আছে। ইউটিউব চ্যানেল চালিয়েও কেউ কেউ অ-নে-ক সফল। শিক্ষার্থীরা মোটিভেশন নিতে চায় না। উল্টো আমাদের সন্দেহ করে। কারণ তারাও জানে যে, এই রাষ্ট্র শুধু কয়েকটা বিসিএস ক্যাডারেরই মূল্য আছে।
এই সমাজও শুধু পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট দেখতে চায়। ফরেন ক্যাডার দেখতে চায়। আর কারোরই যে ক্ষমতা, মর্যাদা নাই এই দেশে। সবাই সব জানে। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কি কোনো সুযোগ নাই? আর সব দায়িত্ব কি শুধু শিক্ষকদের? শিক্ষকরা নিজেও এই রাষ্ট্রে অবহেলিত। আমরা সবাই শুধু নির্দিষ্ট কিছু পেশার ব্যক্তিদের কাছে জিম্মি।
বিসিএসের পেছনে ছুটতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জীবন-যৌবন সব বিসর্জন দেয়। এটা অসুস্থ পরিবেশ। এর ওপর এরা আবার রাস্তাঘাটে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল খাচ্ছে। হতাশা যেন মহামারির আকার নিয়েছে। তরুণরা ড্যারিয়েন গ্যাপে মরছে, ভূমধ্যসাগরে মরছে। রাষ্ট্রের মালিকরা টেকসই সমাধান কিছু ভাবছে কি?
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
* মতামত লেখকের নিজস্ব
