দৈত্যকার সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান
‘ট্যাকেল’ দেওয়ার সাধ্য আছে কি!
প্রকাশ: ১৫:৪৬, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০২:৪৯, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
নাদিম মাহমুদ
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটি যে সংকটে পড়েছে তার অন্যতম কারণ তারা ক্ষমতায় থাকাকালে এই দেশে শিল্প ও সাহিত্যচর্চায় অবহেলা করেছিল, তারা বিশেষ করে মুক্তমনা মানুষের প্রতি কঠোর ও দমন-পীড়নের আচরণ করেছিল তা অনেকাংশে দায়ী। যে দলটির চরিত্রে অসাম্প্রদায়িক চেতনা লেগেছিল, সেই দলটি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এই চেতনাটির যত্ন নিতে পারেনি, ফলশ্রুতিতে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হলেও দলটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ধারণা থেকে যোজন যোজন দূরত্বে পিছিয়ে পড়ে।
এই ক্ষোভেই তাদের প্রতি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই জুলাই আন্দোলনে রাস্তায় নামে, সরকারের পতন চেয়েছিল। যদিও এই অংশটি ভেবেছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটবে, মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে। কিন্তু সেই আশায় ছাই পড়ে মাজার ভাঙার মধ্য দিয়ে। এখন সাম্প্রদায়িক শক্তি এতটাই বৃহৎ দৈত্যকার হয়ে উঠেছে, তাকে ট্যাকেল দেওয়ার শক্তি ইউনূস সরকারের যেমন নেই তেমনি পরবর্তীতে কোন সরকার এলেও সম্ভব হবে না।
যারা এই হামলাগুলো করছে তারা ভালো করে জানে এই দেশে লিবারেল শক্তিকে নির্মূল করতে হলে সংগীত, সাহিত্য, সিনেমা নাটক এই অংশে আঘাত করতে হবে। নারীদের ঘরে ঢুকাতে হবেই হবে। ফলশ্রুতিতে আগামীতে যেখানেই উন্মুক্ত স্থানে গান-বাজনা হবে সেখানে তারা হামলা করার মানসিকতা তৈরি করে রেখেছে।
যে দেশগুলো এখন উগ্রবাদ চর্চায় এগিয়ে সেই দেশগুলোর শুরুটা আমাদের দেশের মতো ছিল। লিবারেল থেকে কনজারভেটিভ লু হাওয়াটা মূলত রাজনৈতিক পক্ষগুলোর নির্মম ব্যর্থতার ফসল। ফলে আজকে যে শক্তির উত্থান ঘটেছে তার ব্যর্থতার দায় আওয়ামী লীগের যেমন ছিল, তেমনি অন্যান্য লিবারেল রাজনৈতিক দলগুলোর রয়েছে। একই দায় এ দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বুঁদ হওয়া বুদ্ধিজীবীদের, সাহিত্যিকদের, শিক্ষকদের, সাংবাদিকদের এবং সর্বোপরি সম্পাদকদের কাঁধে পড়ে। এখান থেকে পরিত্রাণের উপায় না খুঁজলে আগামীতে এই শক্তির আমব্রেলায় নিজেদের সঁপে দিতে হবে, উঠবস করতে হবে, রক্ত দিতে হবে।
লেখক: গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
nadim.ru@gmail.com
* মতামত লেখকের নিজস্ব
