লেখক-শিল্পীরা চাইলে সৎ থাকতে পারেন
প্রকাশ: ১২:৩১, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০৩:১০, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
মোজাফ্ফর হোসেন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বললেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো সাংবাদিকদের পকেটে নিতে চায় না, কিন্তু সাংবাদিকরা নিজেরাই পকেটে ঢুকে যায়।’ এই কথা কিন্তু লেখক-বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্রেও সত্য। সত্য এই অর্থে, রাজনৈতিক দলগুলো নিতে চায় কিনা জানি না, কিন্তু এরা নিজেরাই মাথা ঢুকিয়ে বসে থাকে।
সাংবাদিকরা অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হতে পারেন। কারণ মিডিয়ার মালিকরা প্রায় সব সময় চান তার হাউজ সরকারি দলের হয়ে কাজ করুক। যাতে তার অন্যান্য অকর্ম-কুকর্ম চাপা পড়ে থাকে। আগে ভূস্বামীরা নিজেদের লাঠিয়াল বাহিনী রাখত। এখন লুটপাটকারীরা লাঠিয়াল বাহিনীর পরিবর্তে মিডিয়া রাখে। এসব ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সৎ থাকার সুযোগ কতখানি, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। সরকার নিজেও (ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল) কিন্তু সত্য প্রকাশ করার জন্য সরকারি মিডিয়া (বিটিভি) রাখেনি। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো সাংবাদিকদের যে দলে টানে না, এই কথা বোধহয় সর্বাংশে সত্য না।
কিন্তু লেখক-শিল্পীরা চাইলে সৎ থাকতে পারেন। কারণ অধিকাংশ লেখকশিল্পী পেশাজীবী, লিখে কারো সংসার চলে না। যদি কাজ করেই খেতে হয়, তাহলে অকারণ চাটুকারিতা করে লাভ কী? লেখকশিল্পীদের চাটুকারিতার মূল্য এমনিতেও খুব কম। দু’চার পয়সার জন্য চরিত্র বিক্রি করা। কোনো মানে হয় না। কিন্তু স্বভাব খারাপ হলে চকলেটের বিনিময়েও স্লোগান দেবে। এদের কারণে লেখকশিল্পীদের সেলিং ভ্যালু বাড়ল না। বাড়লে ট্রাই করতাম।
লেখক: কথাসাহিত্যিক
* মতামত লেখকের নিজস্ব
