পালাগানের চ্যাপ্টার মোটামুটি ক্লোজ!
প্রকাশ: ১৯:৫২, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
মোজাফ্ফর হোসেন
পালাগানের চ্যাপ্টার মোটামুটি ক্লোজ! এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প-ফর্মটির মৃত্যু ঘোষিত হলো। ২০২০ সালে ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিল্পী রিতা দেওয়ান বলেছিলেন, ‘যেসব জায়গায় এই পালাগানের আয়োজন করা হয়, আমার এই বিতর্কের কারণে আয়োজকেরা অনুমতি (ডিসি কর্তৃক) পায় না অনুষ্ঠান করার।’ পাঁচ বছর পর একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন পালাগানের জনপ্রিয় শিল্পী আবুল সরকার। এরপরও শিল্পীরা কি সাহস করবেন পালাগান করার? বা জেলা প্রশাসক অনুমতি দেবেন?
দেশের আধুনিক সংগীতশিল্পী, রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীতের শিল্পী, নাটকের শিল্পী, চলচ্চিত্রের শিল্পী, চিত্রকলার শিল্পী ও লেখকরা নীরব। পালাগান বন্ধ হলে তাদের কি? তারা তো আর পালাগানের শিল্পী না। তাছাড়া গ্রামগঞ্জে গানবাজনা বন্ধ হলেও তাদের কিছু যায় আসে না। তারা তো আর গ্রামগঞ্জে গান শুনতে যাচ্ছেন না! নিচে ২০২০ সালের একটা লেখা কপি করে দিলাম, ঘটনা যখন একই নতুন করে আর কিছু লেখার প্রয়োজন দেখছি না।
বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষে—পালাগান, যাত্রাপালা, লোকগান, বাউলগান এসব নিয়ে কথা বলছি বলে এক বন্ধু ফোন করে ধন্যবাদ দিয়ে বলল, আমি তো পারছি না, কারণ অফিস সেনসিটিভ বিষয় নিয়ে লিখতে মানা করেছে।
বাঙালি সংস্কৃতি আবার সেনসিটিভ বিষয় কবে থেকে হলো? বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষে কথা বলতে গেলে কারো অনুভূতিতে লাগবে কেন? মাদরাসায় বলাৎকারের বিরুদ্ধে লিখেছি বলে এক আত্মীয় ফোন করে বলল, ইসলামবিরোধী এসব লিখিস না, মরতে তো হবেই। বলাৎকার আবার ইসলামি কাজ কবে থেকে হলো? আমি তো জেনে এসেছি, বলাৎকারের কারণে আল্লাহ লুৎ (আ.)-এর জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
আরও মজা পেয়েছি, একজন প্রতিষ্ঠিত সিনিয়র লেখক সরকারি চাকরি করেন বলে লাইভে এসে ধর্ষণ, বাঙালি সংস্কৃতি, ভাস্কর্য এসব ইস্যু নিয়ে কিছু বলবেন না। এগুলো নাকি সেনসিটিভ ইস্যু। তিনি শুধু সাহিত্যের নির্মিতি ও কাঠামো নিয়ে কথা বলতে সম্মত আছেন। এই কথাগুলো একজনকে বলতেই সে বলল, আমাদের বিজ্ঞাপনে মুক্তিযুদ্ধের থিম ব্যবহার করাতে বস বলেছেন থিমটা বাদ দিতে, কারণ আমরা দেশের সকলের জন্য পণ্য বানাচ্ছি। আমিও ভাবছি, এখন থেকে দেশের সকলের জন্য ক্যামনে লেখা যায়?
লেখক: কথাসাহিত্যিক
* মতামত লেখকের নিজস্ব
