‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা’ ও আমাদের মিডিয়া
প্রকাশ: ১২:২৮, ২০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৭:২৬, ২০ নভেম্বর ২০২৫
কবির য়াহমদ
‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা’ নিরপেক্ষ শব্দসমষ্টি নয়। এই মুহূর্তে ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা’ হচ্ছে সরকারি লাঠিয়াল বাহিনী। এরা এখন বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ এবং আওয়ামী লীগের সংযোগ থাকা যেকোনো কিছুতে চড়াও হচ্ছে, ভাঙচুর করছে, আগুন দিচ্ছে, লুটপাট করছে—আর আমাদের মিডিয়া তাদের ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা’ রূপে চিত্রিত করে তাদের অপরাধকে প্রকারান্তরে প্রশ্রয় দিচ্ছে। অথচ এর নিরপেক্ষ প্রতিশব্দ হওয়া উচিত ছিল ‘উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র-জনতা’।
কিন্তু তারা উচ্ছৃঙ্খল রূপে চিত্রিত না হয়ে পরিচিতি পাচ্ছে ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা’ রূপ। ফলে এই অরাজকতার আপনা থেকে একটা দায়মুক্তি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কথিত এই ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা’ বেপরোয়া। এতে ক্ষতির শিকার হচ্ছে ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্র; এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার যদিও, তবু তারা এটা থামাবে না; কারণ এদেরই লাঠিয়াল বাহিনীরূপে ব্যবহার করছে তারাই।
প্রত্যাঘাত রূপে অতি সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সারাদেশের গ্রামীণ ব্যাংক আক্রান্ত হচ্ছে। এটাও বেঠিক কাজ। তবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কিছু লোক এসবে জড়িয়ে যাচ্ছে বলে কেউ কেউ দাবি করছেন। তাদের দাবির মধ্যে যুক্তি-অযুক্তি কিছু না খুঁজে তবু বলব—এসব ঠিক না। এই গ্রামীণ ব্যাংকে রাষ্ট্রীয় অংশীদারত্ব ছিল ৩৫ শতাংশ। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস সরকারপ্রধান হয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানা থেকে ২৫ শতাংশ কেড়ে নিয়ে, এটাকে নামিয়ে এনেছেন মাত্র ১০ শতাংশে।
ইউনূস সরকার এখানে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সঙ্গে বেইনসাফি করেছেন। মৌন থেকে তাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন দেশের অনেকেই। এই লুটপাটে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও তারাও এর জন্যে দায়ী নিশ্চিতভাবেই। রাষ্ট্রীয় সম্পদের এমন লুটপাট অনাকাঙ্ক্ষিত-অনভিপ্রেত। আমরা এর নিন্দা জানাই।
ইউনূস-শাসনে লুটপাট রুটিন ও প্রতিকারহীন হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও যারা গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি সাধন করছেন, তাদেরও নিবৃত্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। অপেক্ষা করুন বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফেরার; তখন রাষ্ট্রীয় অংশীদারত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রতিকার হবে, এবং এটা তাদের থেকে ফিরিয়ে নেবে রাষ্ট্রই।
ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে দেশ। হিংসার অনলে জ্বলেপুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছে সব। এর জন্যে দায়ী এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারা জুলাইয়ের চেতনায় আগুন জ্বালাচ্ছে দেশে। এতে ছারখার হয়ে যাচ্ছে দেশ। দেশ বাঁচাতে এদেরকে উৎখাত করা জরুরি এবং এই উৎখাতের একটাই মাধ্যম; নির্বাচন। ফেব্রুয়ারিতে প্রতিশ্রুত নির্বাচন দিতে হবে তাদের এবং ভবিষ্যৎ শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এটা করতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
* মতামত লেখকের নিজস্ব
