টিউলিপের বিচার ও দণ্ড নিয়ে প্রশ্নে যা বললো দুদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:০৫, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ও শেখ হাসিনা ওয়াজেদের ভাতিজি টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার ও দণ্ড নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে উত্থাপিত প্রশ্নের প্রেক্ষিতে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ও শেখ হাসিনা ওয়াজেদের ভাতিজি টিউলিপ সিদ্দিক সম্প্রতি ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং–৫ এর এক মামলায় অনুপস্থিত অবস্থায় দোষী সাব্যস্ত হন। বিষয়টি কেন্দ্র করে যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে দুদক মামলার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে।
আজ রাতে দুদক কাযালয় থেকে চেয়ারম্যানের বরাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। দুদক বলেছে, “উপস্থাপিত তথ্য, সাক্ষ্য এবং পরিস্থিতিগত প্রমাণ একত্রে বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে টিউলিপ সিদ্দিক দুর্নীতিতে সহায়তা ও প্রভাব খাটানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি অভিযোগ থেকে মুক্ত—এমন দাবি করার মতো কোনো ভিত্তি নেই।”
দুদকের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, টিউলিপ সিদ্দিক ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকা মহানগরের অন্যতম ব্যয়বহুল এলাকা গুলশানে একাধিক সরকারি প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান থাকা অবস্থায় শেখ রেহানা, তাদের ভাইবোন এবং টিউলিপ সিদ্দিক—পরিবারের একাধিক সদস্য—সরকারি প্লট বরাদ্দ পান। এই বরাদ্দের ক্ষেত্রে টিউলিপ সিদ্দিক তার খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করেছেন বলে অভিযোগ করে দুদক।
দুদক জানায়, বিশেষ মামলা নং–১৮/২০২৫–এ প্রসিকিউশন পক্ষ ৩২ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছে। এদের কয়েকজন আদালতে শপথ নিয়ে বলেছেন, টিউলিপ সিদ্দিক "খুবই ঘনিষ্ঠ" সম্পর্ক ব্যবহার করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপর প্রভাব বিস্তার করেন এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য মূল্যবান প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করেন। পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দকৃত প্লট—টিউলিপ সিদ্দিকের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, এসব কর্ম ডাচ —দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(কা), ২০১, ২১৭, ২১৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় উল্লিখিত অপরাধে সহযোগিতা (এবেটমেন্ট)—এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার আওতায় গুরুতর অপরাধ।
দুদকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, টিউলিপ সিদ্দিক নিজেও গুলশানে একটি মূল্যবান প্লট পান। প্লটটির বিবরণ হলো—প্লট নং সিডব্লিউএন (এ)-২৭ (পরবর্তীতে প্লট নং ০৫, ব্লক এসই (এ), ফ্ল্যাট নং বি/২০১; বাড়ি নং ৫এ-৫বি( বর্তমানে ১১৫ ও ১১ বি), রোড নং ৭১, গুলশান-২।
দুদকের দাবি, এসব বরাদ্দ জনস্বার্থ নয়; বরং রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমানোর সরকারি প্রকল্পের জমি আত্মীয়-স্বজনদের দেওয়ার মাধ্যমে পরিবারিক সম্পদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল।
টিউলিপ সিদ্দিক ও তার পরিবারের সদস্যরা লন্ডনে অফশোর কোম্পানির সহায়তায় একাধিক সম্পত্তি কেনার সঙ্গে যুক্ত—এমন তথ্যও দুদক উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির প্রশ্ন—জনসেবায় নিয়োজিত পরিবারের সদস্যরা কীভাবে ঢাকা ও লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে বহু সম্পত্তি ক্রয়ের আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করেন?
টিউলিপ সিদ্দিকের দাবি যে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি—এ বিষয়ে দুদক বলেছে, এটি সত্য নয়। অভিযোগ গঠনের প্রতিটি ধাপে তাকে হাজির হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি আদালতে উপস্থিত হননি এবং আইনজীবীর মাধ্যমেও প্রতিনিধিত্ব করেননি। ফলে মামলাটি নিয়ম মোতাবেক অনুপস্থিতিতে বিচার হয়েছে।
