অবস্থার উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬:৩৭, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৭:৩৮, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখা দিলে তাকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে তাকে লন্ডনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জিয়া পরিবার। চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বিমানযাত্রার অনুমতি দিলে যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
দলীয় সূত্র জানায়, গত জানুয়ারিতে যে লন্ডন ক্লিনিকে তিনি চিকিৎসা নিয়েছিলেন, একই হাসপাতালেই ফের ভর্তির বিষয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। কাতার সরকারের সঙ্গে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আনতে যোগাযোগও করা হয়েছে।
বহু বছর ধরেই তিনি আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস ও চোখের জটিলতায় ভুগছেন। ২০১৮ সালে কারাবাসের সময় থেকেই তার একাধিক শারীরিক জটিলতা প্রকট আকার ধারণ করে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে মাহদী আমিন জানান, এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন থাকলেও খালেদা জিয়ার সার্বিক চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে রয়েছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। লন্ডনে অবস্থান করেও তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান যুক্ত রয়েছেন চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে।
তিনি লিখেছেন, ‘ম্যাডামের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে ডা. জুবাইদা রহমান গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারেক রহমান সার্বক্ষণিক নজরদারিতে আছেন, যেন চিকিৎসায় কোনো বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা না থাকে’।
মাহদী আমিন আরও জানান, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেই সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে লন্ডন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। লন্ডন ক্লিনিকের অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রস, যাদের অধীনে খালেদা জিয়া গতবার চিকিৎসা নিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে।
গত বছরের জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের পর এ বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান বিএনপির চেয়ারপারসন। টানা ১৭ দিন লন্ডন ক্লিনিকে থাকার পর তারেক রহমানের বাসায় বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে আরও চারমাস চিকিৎসা নেন তিনি। ৬ মে দেশে ফেরার পর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসা চালু ছিল।
২৩ নভেম্বর রাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। তার পাশে রয়েছেন ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান ও ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার।
হাসপাতালে নেত্রীর শারীরিক অবস্থার খবর নিতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ভিড় করলেও ইনফেকশনের ঝুঁকির কারণে কাউকে সিসিইউতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন মাহাদী আমীন। তিনি বলেন, ‘ইনফেকশনের ঝুঁকির কারণে সিসিইউতে কারও প্রবেশের অনুমতি নেই। হাসপাতালে অবস্থান করলেও দূর থেকেই ভালোবাসা, উদ্বেগ ও শুভকামনা জানাচ্ছেন জনসাধারণ’।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মা খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসী প্রার্থনায় একতাবদ্ধ। অবস্থার উন্নতি হলে তিনি আবারও জাতিকে অনুপ্রাণিত করবেন- এটাই এখন সবার প্রত্যাশা’।
