খালেদা জিয়াকে নিয়ে মুশফিকুলের আবেগঘণ স্মৃতিচারণ
‘আমার ব্যক্তিগত ঋণ’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪:৫৮, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
মুশফিকুলের বিয়ের অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া। ছবি: ফেসবুক
অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে এক আবেগঘণ স্ট্যাটাস দিয়েছেন মেক্সিকোয় নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
স্ট্যাটাসে তিনি খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকালে তার সঙ্গে থেকে দায়িত্ব পালনে ব্যক্তিগত ঋণের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার জীবনের নানা ঘটনা ও স্মৃতিচারণ তুলে ধরেছেন।
স্ট্যাটাসে মুশফিকুলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া খালেদা জিয়ার সঙ্গে একটি গ্রুপ ছবিও দিয়েছেন মুশফিকুল। লিখেছেন: “ফটো: আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ম্যাডামের উপস্থিতি। সেই মুহূর্তটি এখনও সামনে আলো হয়ে জ্বলছে।”
পোস্টে তিনি লিখেছেন, “খালেদা জিয়া শুধু একজন নেত্রীই নন বরং তার জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়া এক অনুপ্রেরণার নাম।”
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন রাষ্ট্রদূত মুশফিক।
মুশফিকুলের সেই আবেগঘণ স্ট্যাটাসটি তুলে দেওয়া হলো-
“মাত্র ২৬ বছর বয়সে দেশের সর্বোচ্চ অফিস—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাজে যোগদানের যে সুযোগ পেয়েছিলাম, যার জন্য আমি কাজ করেছি তিনি সেসময়ের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি শুধু একজন নেতা ছিলেন না—আমার জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়া এক প্রেরণা। তাঁর সান্নিধ্য, মাতৃস্নেহ, আর তাঁর শেখানো প্রত্যয়ই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
“জীবনের প্রতিটি ধাপে জুলুমের মুখে, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে যখনই দাঁড়িয়েছি—জাতিসংঘে, হোয়াইট হাউসে বা অন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে, আমি তাঁর ভূমিকাই সগৌরবে তুলে ধরেছি। একই সঙ্গে তুলে ধরেছি বিগত হাসিনা সরকারের তাঁর প্রতি চালানো নিপীড়ন ও নির্যাতনের চিত্র। আমার কাজের স্বীকৃতি, অনুপ্রেরণা, সাহস এবং মানুষের ভালোবাসার নীরব শক্তি, এসবের পেছনেও আছে তাঁর আশীর্বাদ।”
“২০১৬ সালে পরিবারসহ লন্ডনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমরা একটি বাসায় সবেমাত্র উঠেছি, এই অবস্থায় ম্যাডাম লন্ডনে এলেন। তিনি শুধু বললেন, ‘এখানে তুমি কি করবে। যুক্তরাষ্ট্রে যাও। সেখানে তুমি অনেক ভালো করছিলে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার সুযোগ তোমার বেশি। তোমার কানেকশনও ভালো।’”
“সেদিনই সিদ্ধান্ত নিই। পরিবারকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসি। এরপরের ঘটনাপ্রবাহ কারও অজানা নয়।”
“গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় বাংলাদেশে যখনই গিয়েছি, তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি। গত মাসে হাসপাতালে থাকার সময় মাসুদ (ম্যাডামের ব্যক্তিগত সহকারী) তাকে জানানো মাত্রই আমাকে জানালেন- ‘ম্যাডাম আপনাকে ডাকছেন।’”
“সেদিনও আমরা দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছি—দেশ, রাজনীতি, কূটনীতি নিয়ে। পরে ডা. জাহিদ ভাইও আমাদের আলোচনায় এসে যোগ দেন। কথার এক পর্যায়ে ম্যাডাম বললেন, ‘তোমার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সেদিনের সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিল।’”
“রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার নিয়োগে তিনি সত্যিকারের আনন্দিত হয়েছিলেন, যদিও দেশ হিসাবে মেক্সিকো হওয়ায় সম্পূর্ণ তৃপ্ত ছিলেন না।”
“আজ আমি এমন এক দেশে আছি, যেখানে ইচ্ছে করলেই দৌড়ে যেতে পারছি না। সরকারি নিয়মকানুন, আর একটি ছোট্ট সার্জারির কারণে তাৎক্ষণিক ফ্লাই করতেও পারছিনা। শুধু অশ্রুসিক্ত চোখে মহান রবের কাছে অযুত প্রার্থনা— তাঁর অফুরন্ত দয়ার ভাণ্ডার থেকে সামান্য করুণা ভিক্ষা…”
