নাফিস সরাফাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫:১৭, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
এক হাজার ৬১৩ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং অভিযোগে পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট গুলশান থানায় এ মামলা করে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রেইস ম্যানেজমেন্ট পিএসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়েছে অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডে। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০১৩ সালের মধ্যেই কোম্পানিটি ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনার দায়িত্ব পায়, বর্তমানে যার সংখ্যা ১৩।
অভিযোগ অনুযায়ী, নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ এবং সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম—তিনজন মিলে এসব মিউচুয়াল ফান্ডের বিপুল অর্থ ব্যবহার করেন নিজেদের স্বার্থে। তারা প্রথমে ফান্ডের টাকা বিনিয়োগ করে তখনকার ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কিনে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রভাব বিস্তার করেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদেও বসানো হয়।
মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে মাল্টি সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকারেজ হাউজ অধিগ্রহণ করেন তারা। ওই প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানায় সিআইডি। এছাড়া পদ্মা ব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও স্ট্র্যাটেজিক ইকুইটি ফান্ডেও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী ও ছেলে রাহীব সাফওয়ান সারাফাত চৌধুরীর নামে দেশে মোট ৭৮টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে ১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। বর্তমানে এসব হিসাবে স্থিতি রয়েছে মাত্র ২৯ লাখ ২১ হাজার টাকা।
আরও বড় তথ্য হলো—রাহীব সাফওয়ানের নামেই বিদেশি ব্যাংকে ৭৬টি হিসাব পরিচালনার প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে—দুবাইতে ফ্ল্যাট ও ভিলা , সিঙ্গাপুরে একাধিক ফান্ড, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত কোম্পানি , কানাডা, সিঙ্গাপুর ও ইউএইতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ।এসবই নাফিস সরাফাত পরিবার ও সহযোগীদের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
সামাজিক ও গণমাধ্যমে বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বিদেশে অর্থপাচার, বাড়ি-ফ্ল্যাট ক্রয়সহ একাধিক অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পরই সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের সারসংক্ষেপে পাওয়া গেছে—প্রতারণা, জালিয়াতি ও দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন করা হয়েছে।
বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, “রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় মানিলন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলমান থাকবে।”
