বন্দর রক্ষায় হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১:৪৪, ২১ নভেম্বর ২০২৫
সিপিবির বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল। ছবি: সমাজকাল
চট্টগ্রামের লালদিয়া চর ৩৩ বছরের জন্য এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল ২২ বছরের জন্য ডেনমার্কের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলসহ চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ও বে টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর ২০২৫) বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সাবেক সভাপতি ডা. এম এ সাঈদের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ’র সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি আনোয়ার হোসেন রেজা, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান।
সমাবেশে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর দেশে ফিরে ড. ইউনূস বন্দর উন্মুক্ত করার যে ধারণা দেন, আজ সেই ধারাবাহিকতায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দর ইজারা দিয়ে তার ইচ্ছা পূরণ করছেন। জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থ রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার চুক্তি বাতিল না করলে হরতাল, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. এম এ সাঈদ বলেন, “জাতীয় ও কৌশলগত সম্পদের মালিক দেশের জনগণ। জনগণকে অন্ধকারে রেখে বন্দর ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার সরকারের নেই। দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করলেই বন্দর পরিচালনা সম্ভব। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. শাহীন রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. এসএম ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সভাপতি গৌতম শীলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে অনুষ্ঠিত মশাল মিছিল প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন মোড়, জিরো পয়েন্ট ঘুরে পুনরায় পুরানা পল্টন এলাকায় এসে শেষ হয়।
