বাউল শিল্পী আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি চায় মহিলা পরিষদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭:৫৯, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তারে গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি এবং দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপসহ সব শিল্পীর নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মহিলা পরিষদের অভিযোগ, ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরায় খালা পাগলীর মেলামঞ্চে পালাগান পরিবেশন করেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার। তার পরিবেশিত গানের নির্দিষ্ট কিছু অংশ কেটে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিভ্রান্তিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। ১৯ নভেম্বর তাকে মাদারীপুরের একটি গানের আসর থেকে পুলিশ তাকে ‘নিরাপত্তার কথা বলে’ নিয়ে এসে পরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখায়।
মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ধর্ম অবমাননার নামে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভবে দেশের সংস্কৃতিচর্চাকে ধ্বংসের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ক্ষতিকর। বাঙালি সাংস্কৃতিকে ধ্বংসের এ ধরনের অপপ্রচেষ্টা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেশ কিছুদিন থেকেই লক্ষ্যণীয়। একই সাথে দেশের দীর্ঘদিনের মানবতাবাদী, সহনশীল ও সমন্বিত সাংস্কৃতিক ধারার অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ অংশ বাউল সংস্কৃতির একজন শিল্পীকে এমন অভিযোগে গ্রেপ্তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় গুরুতর হুমকিস্বরুপ’।
বুধবারের (২৬ নভেম্বর) বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাউল সম্প্রদায়ের চিন্তা, দর্শন ও গান এই ভূখণ্ডে সাম্য, মানবিকতা এবং মুক্তচিন্তার মূল্যবোধের সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে ধারণ করে এসেছে। এ ধরনের শিল্পীদের ওপর দমনমূলক পদক্ষেপ দেশের সাংবিধানিক অধিকার বিশেষত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিল্প-সংস্কৃতির স্বাধীন চর্চা ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং একজন শিল্পীকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তারে ভয়, আতঙ্ক ও দমনমুলক পরিবেশ সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটন, কেন বার বার ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং কারা এর মদদদাতা সেগুলো তদন্তের পাশাপাশি এই ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের পর আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত সাজার দাবিও জানান মহিলা পরিষদ নেতারা।
