মোমো বাড়াছে নীরব হৃদরোগের ঝুঁকি!
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:২৭, ২৮ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০২:০৪, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
প্রতীকী ছবি
ভারতের পাহাড়ি উপত্যকার সাদামাটা খাবার ‘মোমো’। এখন ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট থেকে বড় রেস্তোরাঁ—সব জায়গায়ই সমান জনপ্রিয়। অনেকেই মনে করেন স্টিমড মোমো তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর, তাই সামান্য খিদে পেলেই মোমোই ভরসা। আবার ফ্রায়েড, প্যান ফ্রায়েড কিংবা চিজ মোমোর বাহারি স্বাদও আকৃষ্ট করে ছোট-বড় সবাইকেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—নিয়মিত মোমো খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরে নীরব ক্ষতি ডেকে আনতে পারে, বিশেষ করে হৃদ্যন্ত্রের জন্য।
মোমোর উপরের অংশ তৈরি হয় রিফাইন্ড ময়দা দিয়ে, যেখানে ফাইবার প্রায় নেই। ফলে এটি খুব দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। নিয়মিত রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট গ্রহণে শরীরে ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স তৈরি হয়—যা টাইপ–২ ডায়াবেটিস, পেটের মেদ বৃদ্ধি এবং ওজন বাড়ার মূল কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “মোমো দ্রুত পেট ভরায় ঠিকই, কিন্তু প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয় না।”
রাস্তায় খোলা অবস্থায় রাখা মোমোতে ই.কোলাই, কলিফর্মসহ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়—যা থেকে ডায়রিয়া, বমি, পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক ও হজমের গোলমাল হতে পারে। এসব সংক্রমণ বারবার হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
মোমোর সঙ্গে দেওয়া টক–ঝাল চাটনিতে থাকে উচ্চমাত্রার সোডিয়াম। লবন বেশি খাওয়া শরীরে জলধারণ বাড়ায় এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। উচ্চ রক্তচাপই বহু হৃদরোগের ‘সাইলেন্ট ট্রিগার’।
ফ্রায়েড মোমোর ক্ষেত্রে অনেক দোকান একই তেল বারবার ব্যবহার করে। এতে তেলে ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়—যা ধমনিতে প্লাক জমা বাড়ায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দ্বিগুণ করতে পারে।
বাহারি মোমোর ভেতরের সবজি বা মাংস অনেক সময় হয় নিম্নমানের, যেগুলোতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন বা খনিজ থাকে না। নিয়মিত এরকম খাবার খেলে:হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, পেট ফুলে থাকা, পুষ্টির ঘাটতি, শক্তি কমে যাওয়া—এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন মাঝেমধ্যে খাওয়া সমস্যা নয়। কিন্তু অভ্যাস করা চলবে না। স্টিমড মোমো বেছে নিন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দোকান দেখে নিন, চাটনি কম খান।
ফ্রায়েড বা চিজ মোমো এড়িয়ে চলুন। মোমো সুস্বাদু ঠিকই, কিন্তু এর নীরব ক্ষতিও কম নয়। তাই টুকটাক খিদে পেলেই মোমো নয়—সচেতন হয়ে খাওয়াই শ্রেয়।
