ধূমপান না করলেও ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে ফুসফুস!
প্রকাশ: ২৩:২৪, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
জীবনযাপন ডেস্ক
ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়জনিত রোগ সিওপিডি নিয়ে বহু মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা—“শুধু ধূমপায়ীদেরই সিওপিডি হয়”। বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আধুনিক জীবনের দূষণ, রান্নার ধোঁয়া, গাড়ির কালো ধোঁয়া, নির্মাণস্থলের ধুলাবালি—সব মিলিয়ে ধূমপান না করলেও অনেকেই সিওপিডি-তে আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনকি কম বয়সেও।
ধূমপান বড় কারণ, কিন্তু একমাত্র নয়
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সিগারেট সিওপিডি-র প্রধান কারণ হলেও একে কেন্দ্র করেই পুরো ঝুঁকি বিচার করা ভুল।
গ্রাম–শহর উভয় অঞ্চলে কাঠ, কয়লা বা বায়োমাসে রান্না করা বাড়ির মহিলারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
নির্মাণ শ্রমিক, কারখানার কর্মী, গ্যারেজ কর্মী, পরিবহন শ্রমিক—ধুলো ও ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করায় দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুস ক্ষয় হয়।
যানবাহনের ধোঁয়া, ব্যস্ত শহরের দূষণ, ধুলোয় ভরা পরিবেশ—সবই সিওপিডি বাড়ায়।
বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় অগণিত নারী ঘরোয়া চুলোর ধোঁয়ার কারণে সিওপিডি আক্রান্ত হন—যেখানে তারা কখনও ধূমপান করেননি।
অনেকে মনে করেন সিওপিডি শুধু বয়স্কদের সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে,শৈশব থেকেই দূষণের সংস্পর্শে থাকা, নিয়মিত ধোঁয়ার মধ্যে রান্না করা, শিল্পাঞ্চলের নিকট বসবাস—এসব কারণে ২৫–৩০ বছর বয়সেই সিওপিডি ধরা পড়ছে।
এটি কেবল বয়সের রোগ নয়, বরং পরিবেশ ও শ্বাসযন্ত্রের উপর দীর্ঘদিনের চাপের পরিণতি।
অনেকে মনে করেন সবুজ বা শান্ত এলাকায় থাকলে ঝুঁকি কম। কিন্তু ঘরের ভেতরেই গড়ে ওঠে “অদৃশ্য দূষণ”—ধূপকাঠি, মশার কয়েল, গ্যাস চুলোর ধোঁয়া, রান্নাঘরের অতিরিক্ত ভাপ-এসবই ঘরের বায়ুকে ক্ষতিকর করে তোলে। তাই ইন্ডোর পলিউশন নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সিওপিডি রোগীদের শীতকাল সবচেয়ে কষ্টের সময়।ঠান্ডা বাতাস, ধোঁয়ার ঘনত্ব , গাড়ির কালো ধোঁয়া—এসব কারণে শ্বাসনালিতে চাপ বাড়ে। ফলে কাশি, হাঁপানি, বুকে চাপ, শ্বাস নিতে কষ্ট—সব উপসর্গই বেড়ে যায়।
চিকিৎসকরা শীতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সিওপিডি নিয়ন্ত্রণে ইনহেলার গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু চিকিৎসা এখানেই শেষ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে—নিয়মিত ফ্লু ও নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন নেওয়া, দূষণ বেশি থাকলে বাইরে যাওয়া কমানো, মাস্ক ব্যবহার ও ঘরে যথেষ্ট বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা।
শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া—এসবই রোগ নিয়ন্ত্রণে অপরিহার্য।
বিশ্বজুড়ে সিওপিডি দ্রুত মৃত্যুর বড় কারণ হয়ে উঠছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এই ঝুঁকি আরও বেশি—কারণ ধোঁয়া, ধুলাবালি, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, রান্নার চুলোর ধোঁয়া—সব মিলিয়ে ফুসফুস সর্বক্ষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই “ধূমপান না করলে কিছু হবে না”—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজন সচেতনতা, দূষণবিহীন পরিবেশ, এবং সঠিক অভ্যাস।
