নারীদের শরীরে জিঙ্কের ঘাটতিতে বাড়ে জটিল রোগের ঝুঁকি!
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:৫৮, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
সুস্বাস্থ্যে অপরিহার্য খনিজগুলোর মধ্যে জিঙ্ক অন্যতম। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত রাখা, হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ, ত্বক–চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখা থেকে শুরু করে মানসিক সুস্থতা—জিঙ্ক প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই জিঙ্কের ঘাটতি হলে বিশেষ করে মহিলাদের শরীরে একাধিক জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করতে না পারলে পরবর্তীতে এই ঘাটতি গুরুতর রোগে রূপ নিতে পারে। তাই কোন সংকেতগুলো দেখলে সতর্ক হবেন—জেনে নিন।
জিঙ্কের ঘাটতির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ
১. অনিয়মিত ঋতুস্রাব ও সন্তান ধারণে সমস্যা
জিঙ্ক হরমোন ব্যালেন্সে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এর অভাবে ঋতুচক্রে অনিয়ম, ব্যথা, এমনকি গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
২. অতিরিক্ত চুল পড়া ও নখ ভেঙে যাওয়া
চুল পাতলা হওয়া, অতিরিক্ত চুল ঝরা ও দুর্বল নখ—সবই জিঙ্ক ঘাটতির সাধারণ উপসর্গ।
৩. বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা
শুকনো ত্বক, একজিমা, র্যাশ, ফুসকুড়ি কিংবা ঘন ঘন ত্বকের সংক্রমণ হতে পারে।
৪. ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়া
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে শরীর ঠান্ডা, জ্বর ও সংক্রমণে বারবার আক্রান্ত হয়।
৫. ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া
জিঙ্ক কোষ মেরামত ও নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। এর অভাবে ক্ষত সারতে দেরি হয়।
৬. খিদে কমে যাওয়া ও ওজন হ্রাস
স্বাদ–গন্ধ কম অনুভব করা, খাওয়া কমে যাওয়া অথবা অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস জিঙ্ক ঘাটতির লক্ষণ।
৭. মনোযোগ কমে যাওয়া ও স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া
হঠাৎ ভুলে যাওয়া বা একাগ্রতা ধরে রাখতে না পারাও জিঙ্কের স্বল্পতার সঙ্গে যুক্ত।
৮. মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অবসাদ
জিঙ্ক মুড নিয়ন্ত্রণে জরুরি। এর ঘাটতিতে ডিপ্রেশন, রাগ–অসন্তোষ বাড়তে পারে।
৯. মুখের ঘা বা জিহ্বায় সাদা আস্তরণ
মুখে ঘা, জিহ্বায় সাদা প্রলেপ, মুখে দুর্গন্ধে অতিসংবেদনশীলতা—ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।
১০. হজমের সমস্যা
অন্ত্র ঠিকমতো কাজ না করায় ডায়রিয়া, গ্যাস, পেট ফাঁপা বা বদহজম দেখা দেয়।
১১. চোখে সমস্যা
রাতকানা, আলোতে অস্বস্তি বা দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া জিঙ্কের ঘাটতির আরেক লক্ষণ।
১২. হাড়–জয়েন্টে ব্যথা
হাড় ও জয়েন্টের শক্তি বজায় রাখতে জিঙ্ক জরুরি। ঘাটতিতে ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
জিঙ্কের ঘাটতি কাটাতে করণীয়
জিঙ্ক পুনরায় স্বাভাবিক স্তরে আনতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
কাজুবাদাম, আখরোট
গম, চাল, ওটস
ছোলা, মুসুর ডাল, রাজমা
বিভিন্ন বীজ (ফ্ল্যাক্সসিড, কুমড়োর বীজ)
ডিম, মুরগির মাংস
রেড মিট
সামুদ্রিক খাবার—বিশেষ করে ঝিনুক, কাঁকড়া, চিংড়ি, মাছ
সাপ্লিমেন্ট নেয়ার আগে সতর্কতা
জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট অযথা নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।
