এবার বানিয়ে ফেলুন শীতের এই ফুলের চা!
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৩৯, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
শীত এলে এক কাপ গরম চা যেন সকাল–বিকেল দু’ই সময়েরই শক্তির উৎস। আজকাল অনেকে স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে দুধ চায়ের বদলে গ্রিন টি, লেবু চা বা নানা হার্বাল টি–র দিকে ঝুঁকছেন। তবে জানেন কি, এই শীতে খুব পরিচিত এক ফুল—গাঁদা বা ম্যারিগোল্ড দিয়েই তৈরি হতে পারে স্বাস্থ্যকর এক নতুন পানীয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ম্যারি গোল্ড চা পান করলে শরীরের ভিতরে ঘটে একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন। বহুকাল ধরে গাঁদা ফুল ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে; এখন তা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে প্রাকৃতিক ‘ওয়েলনেস ড্রিঙ্ক’ হিসেবেও।
পেটের সমস্যা কমাতে দারুণ কার্যকর
গবেষণায় দেখা গেছে, গাঁদা ফুলের চায়ে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি ও জীবাণুনাশক উপাদান, যা পেটের প্রদাহ কমাতে বিশেষভাবে সহায়ক।
বদহজম,ফোলাভাব,অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক অস্বস্তি—এই সমস্যাগুলোতে নিয়মিত গাঁদা চা আরাম দিতে পারে।
এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে, ফলে নিয়মিত পেটের গোলমাল কমে।
ত্বকের জ্বালা–চুলকানি কমাতে সহায়ক
চুলকানি, র্যাশ বা ফোলা–লাল ত্বকের চিকিৎসায় গাঁদা বহু যুগ ধরে ব্যবহৃত। গাঁদায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের প্রদাহ কমায়, ক্ষত সারায় এবং কোষ মেরামতে সাহায্য করে।
যদিও চা হিসেবে খেলে প্রভাব তুলনামূলক কম, তবুও নিয়মিত পান করলে ত্বকের সামগ্রিক স্বস্তি ও সুরক্ষায় এটি কাজ করে।
ইমিউনিটি বাড়ায়, রক্ষা করে মৌসুমি রোগ থেকে
শীতে সর্দি–কাশি, ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ে। গাঁদা চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টি–মাইক্রোবায়াল উপাদান সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
নিয়মিত এক কাপ গাঁদা চা পান শরীরকে মৌসুমি রোগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
পিরিয়ডের ব্যথা কমায়, মাংসপেশি শিথিল করে
গাঁদা ফুলের চায়ে এমন উপাদান আছে যা পেশির খিঁচুনি ও টান কমায়। অনেক নারী অনিয়মিত ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে এটি পান করে আরাম পান।
তবে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি উপযুক্ত নয়—এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
উদ্বেগ কমায়, ঘুমে সাহায্য করে
দিনভর কাজের চাপ, উদ্বেগ বা টেনশন কমাতে রাতে শোয়ার আগে এক কাপ গরম গাঁদা চা মন–শরীর দুই–ইকে শান্ত করে। এর স্বাভাবিক ক্যামোমাইল–জাতীয় প্রভাব ঘুম আনতে সাহায্য করে।
গাঁদা চা সাধারণত নিরাপদ হলেও—যাদের ফুল বা পলেনে অ্যালার্জি আছে, তারা সতর্ক থাকবেন।
অতিরিক্ত পরিমাণে পান করা ঠিক নয়
গর্ভবতী নারীরা এড়িয়ে চলবেন
দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
