ক্লাসরুম থেকে রানওয়ে
‘টু থ্রি ওয়ান কালেকটিভস’ বিইউএফটি’র ফ্যাশন শো
রাজীব শাঁখারী
প্রকাশ: ১২:১২, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফ্যাশন প্রদর্শনী, ‘টু থ্রি ওয়ান কালেকটিভস’। ছবি: আয়োজকদের ফেসবুক
বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এর ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফ্যাশন প্রদর্শনী, ‘টু থ্রি ওয়ান কালেকটিভস’। ‘ক্লাসরুম থেকে রানওয়ে’ এই ব্যতিক্রমধর্মী ধারণা থেকেই অনুষ্ঠিত হয় পুরো আয়োজন। আর প্রদর্শনীটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ইউনিভার্সিটির ২৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাদের শেখা ও সৃজনশীলতার বাস্তব প্রয়োগের এক উজ্জ্বল উদাহরণ এই ফ্যাশন শো।

ফ্যাশন শোতে প্রদর্শীত হয় ৬৪টিরও বেশি আউটফিট ওয়্যার। ৩৭ জন মডেল এবং ৩৪ জন ডিজাইনারের উপস্থিতি শোর শোভা বাড়িয়ে তোলে কয়েকগুণ। শোর প্রতিটি পোশাকই শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ডিজাইন, কারিগরি দক্ষতা এবং বাস্তব ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বৈচিত্র্যময় এই কালেকশনগুলো শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ট্রেন্ড, কারিগরি পারদর্শিতা এবং সৃজনশীল চিন্তার গভীরতাকে আরও বিকশিত করে।

দুটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক কোর্সের শেখার ফলাফল হিসেবে তৈরি করা হয়েছে ফ্যাশন শোতে প্রদর্শিত পোশাকগুলো। বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক সুম্মিয়া সুলতানা পরিচালনা করেছেন ‘ড্র্যাপিং ২’ বিভাগ। আর ‘অ্যাডভান্স মেনজওয়্যার প্যাটার্ন’ পরিচালনা করেছেন সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আরিফুল ইসলাম।

পাঁচটি ভিন্ন কিউ বা থিমে সাজানো হয়েছিল পুরো রানওয়েটি। যার প্রতিটি সেগমেন্টই ছিল রঙ, কাটিং, ড্র্যাপিং, প্যাটার্ন এবং স্টাইলের বৈচিত্র্যময় মেলবন্ধন। প্রথমটি ছিল পিঙ্ক বা গোলাপিনির্ভর চেরি ব্লসম থিমে। সাদা থেকে শুরু করে হালকা গোলাপি, গাঢ় গোলাপি এ রকম যে শেডগুলো ছিল।

দ্বিতীয় কিউতে ছিল কিছুটা মিশ্র রঙের আউটফিট। দ্বিতীয় কিউতে ছোখে পড়ে রঙের চমৎকার রূপান্তর। নীল থেকে সবুজ, আবার সবুজ থেকে নীলের দিকে বয়ে যাওয়া বাহারি শেডের ব্যবহার।
তৃতীয় কিউ ছিল ডুয়েট পোশাক। পুরুষ ও নারীর ফরমাল পোশাক, মেনজওয়্যার ও গাউনের কালার কম্বিনেশনে তৈরি হয়েছে নিখুঁত ভারসাম্যপূর্ণ পোশাক।

মিশ্র কালার প্যালেটের থিমে সাজানো ছিল চতুর্থ কিউটি। গোলাপি এবং কালোর আধিক্য দেখা গেছে এই কিউয়ের কালেকশনে।
কালো রঙের ওপর বেশি ফোকাস করে মূলত সাজানো হয় এই রানওয়ের পঞ্চম এবং শেষ কিউটি। সঙ্গে লাল রঙ আর লেদারের ব্যবহার এই কিউটিকে গথিক থিম হিসেবে আলাদা করা হয়েছে। প্রতিটি আউটফিট আর শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল উপস্থাপনা ছিল চোখজুড়ানো।

রানওয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফারুক হাসান, চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, বিইউএফটি। প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার আয়ুব নবী খান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি। চেয়ারম্যান তারা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, পরিশ্রম এবং একাডেমিক উৎকর্ষের প্রশংসা করে বলেন, ‘বিইউএফটি এখন এমন এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে শেখা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তব শিল্প অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীরা গড়ে উঠছে আগামী দিনের ফ্যাশন লিডার হিসেবে।’

এই রানওয়ে শোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশের তরুণ ডিজাইনাররা কেবল স্থানীয় বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ফ্যাশন ও তৈরি পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল করে তুলবে। শিক্ষা, শিল্প এবং সৃজনশীলতার মধ্যে উপযুক্ত সেতুবন্ধ গড়ে তুলবে। তাই এই রানওয়ে শো শুধু ফ্যাশন প্রদর্শনীই নয়, বরং এটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব রূপ, সৃজনশীল চিন্তার প্রকাশ এবং তরুণদের সৃষ্টিশীল মেধার এক বাস্তবধর্মী মঞ্চ।
