দুশ্চিন্তার কারণ যখন ডার্ক সার্কেল
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৫৪, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
চোখের ডার্ক সার্কেল এখন খুব সাধারণ সমস্যা। দীর্ঘ দুশ্চিন্তা, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, পানিশূন্যতা, বয়স—সব কিছুর প্রভাব পড়ে চোখের নিচের পাতায়। তবে নিয়ম মেনে চললে এই বিরক্তিকর কালো দাগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কমানো যায়, অনেক সময় পুরোপুরি দূরও হয়। নিচে ঘরোয়া পদ্ধতি থেকে শুরু করে চিকিৎসকের পরামর্শ—সব মিলিয়ে ডার্ক সার্কেলের কার্যকর সমাধান তুলে ধরা হলো।
পর্যাপ্ত ঘুমই প্রথম ওষুধ
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস ডার্ক সার্কেল কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।রাত জাগা ও ঘুমের আগে অতিরিক্ত ফোন–ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করুন।ঘুমের মান ভালো রাখতে ঘুমানোর আগে ৩০ মিনিট স্ক্রিন–ফ্রি সময় রাখুন।
হাইড্রেশন: ত্বক সতেজ রাখার মূলমন্ত্র
দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা জরুরি।অতিরিক্ত ক্যাফেইন, চা–কফি ও লবণ শরীরে পানি শুষে নেয়—ফলে চোখের নিচে কালচে দাগ বাড়ে।
ঠাণ্ডা সেক: সহজ ঘরোয়া উপায়
ঠাণ্ডা দুধে কটন ডুবিয়ে ১০–১৫ মিনিট চোখে সেক নিন।ফ্রিজে ঠাণ্ডা করা শসার স্লাইস দিন।গ্রিন টি ব্যাগ ফ্রিজে রেখে চোখে ১০ মিনিট রাখুন।আইস কিউব সরাসরি ব্যবহার নয়—কাপড়ে মুড়িয়ে নিন।এসব পদ্ধতিতে চোখের আশপাশের রক্তচলাচল ভালো হয়, ফোলাভাবও কমে।
আই–ক্রিম: নিয়ম করে ব্যবহার করুন
রাতে ঘুমানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আই–ক্রিম লাগান। হালকা হাতে ম্যাসাজ করলে শোষণ ভালো হয় এবং ত্বক টাইট থাকে।
সানস্ক্রিন: চোখের চারপাশেও প্রয়োজন
সূর্যের ইউভি রশ্মি চোখের নিচের ত্বককে দ্রুত কালো করে তোলে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে আই এরিয়া–ফ্রেন্ডলি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
ডায়েটে পরিবর্তন আনুন
চোখ সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন খাবারে রাখুন—গাজর, পালং শাক, ব্রকোলি, বাদাম ও আখরোট, ডিম, মাছ ও লেবুজাতীয় ফল।এসব খাবারে থাকা ভিটামিন–মিনারেল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
মেকআপ রিমুভ করা বাধ্যতামূলক
ঘুমানোর আগে চোখের মেকআপ অবশ্যই পরিষ্কার করুন। নরম ক্লিনজার বা মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহার করতে পারেন। মেকআপ না তুললে ত্বক ক্লান্ত হয়ে যায়—ডার্ক সার্কেল আরও বাড়ে।
যে ভুলগুলো করবেন না
চোখে অতিরিক্ত ঘষাঘষি,রাতে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার, অতিরিক্ত চা–কফি, নিয়মিত রাত জাগা
চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে কখন
ঘরোয়া উপায় চেষ্টা করেও দীর্ঘদিন কমছে না, চোখে ব্যথা বা ঘন ঘন ফোলাভাব, হঠাৎ করে খুব গাঢ় হয়ে গেছে কালো দাগ, থাইরয়েড, অ্যালার্জি বা সাইনাস সমস্যা আছে।
কিছু ক্ষেত্রে লেজার, পিলিং বা ফিলার চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে—এ জন্য ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ জরুরি।
