শীতের শুরুতেই এলার্জি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নিন
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৪৫, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
শীতের আমেজ বাড়তে না বাড়তেই শহরে সর্দি–কাশি ও শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি বেড়ে গেছে শীতকালীন এলার্জির প্রকোপ। বাতাসে ধুলোবালি, ব্যাকটেরিয়া ও নানান অ্যালার্জেনের পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই সময়টায় সামান্য অসতর্কতাই বড় ঝামেলার কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে যাদের হাঁপানি, সাইনাস বা ধুলো–অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের জন্য শীতের শুরুর সময়টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
শীতকালীন এলার্জির সাধারণ উপসর্গ
ঘন ঘন হাঁচি, গলা খুসখুস করা, নাক দিয়ে পানি পড়া, কানে চাপ বা অস্বস্তি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, চোখে জ্বালা— এই সময় এগুলোই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে হালকা জ্বর বা ত্বকে ফুসকুড়িও দেখা যায়, যা এলার্জিরই অংশ। তাই উপসর্গ হালকা হলেও সতর্ক থাকা জরুরি।
সমাজকালের পাঠকদের জন্য শীতের শুরুতেই এলার্জির ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা যেসব অভ্যাস পালনের পরামর্শ দেন, তার মধ্য থেকে সবচেয়ে কার্যকর ৫টি উপায় তুলে ধরা হলো—
১) উলের পোশাক রোদে দিন
আলমারিতে অনেকদিন ধরে রাখা সোয়েটার, চাদর বা উলের যে কোনো পোশাক ব্যবহার করার আগে অন্তত ২–৩ ঘণ্টা রোদে শুকিয়ে নিন। উলের ভাঁজে জমে থাকা ধুলো বা ক্ষুদ্র কীটশত্রু এলার্জি বাড়াতে পারে— তাই এটি শীতের প্রথম করণীয়।
২) ঘর খোলামেলা রাখুন
শীতের কারণে অনেকেই ঘর বন্ধ করে রাখেন, যা ধুলো জমা বাড়ায়। কার্পেট, পর্দা, পোষ্যের লোম বা বন্ধ ঘরের আর্দ্রতা অনেক সময় এলার্জির উৎস হয়। তাই ঘরে পর্যাপ্ত রোদ ঢোকার ব্যবস্থা করুন, জানালা খুলে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন।
৩) পোকামাকড়ের উপদ্রব দূর করুন
রান্নাঘর, বাথরুম বা বেসিনের নিচের পাইপে লিক থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করে নিন। পানি ঝরঝর করলে তেলাপোকা বা অন্যান্য পোকামাকড় বেড়ে যায়— আর এগুলোর উপস্থিতিই এলার্জির বড় ট্রিগার।
৪) ধুলোমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখুন
বিছানার চাদর–বালিশের কভার সপ্তাহে কমপক্ষে দু’বার পরিবর্তন করুন। সোফা বা পর্দায় ধুলো জমতে দেবেন না। ঘরের প্রতিটি কোণ ঝাড়ু ও ভ্যাকুয়াম ক্লিনারে পরিষ্কার রাখলে এলার্জেনের মাত্রা অনেকটাই কমে।
৫) বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন
শীতের শুরুতে বাতাসে ধুলোবালির পরিমাণ বেড়ে যায়। বাইরে বের হলে মাস্ক পরা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর সুরক্ষা। ধুলো, পরাগকণা বা ব্যাকটেরিয়া— সবকিছু থেকেই এটি আপনাকে সুরক্ষিত রাখে।
শীতের শুরুতে সামান্য সচেতনতা পুরো মৌসুম জুড়ে এলার্জির বিরক্তিকর ঝামেলা অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, রোদে পোশাক শুকানো, ঘরের বাতাস চলাচল— এই ছোট ছোট অভ্যাসই রাখতে পারে বড় স্বস্তি।
