২০ মিনিটের জাদুকরী প্যাচে ক্ষয় সারাবে, গজাবে নতুন দাঁত
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:২৭, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
দাঁতের ব্যথা, ক্ষয়, রুট ক্যানাল বা ডেন্টাল ইমপ্লান্ট—সবই ভবিষ্যতে ইতিহাস হয়ে যেতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এমন এক বিপ্লব ঘটিয়েছেন, যা দাঁতের চিকিৎসাকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। তারা তৈরি করেছেন একটি মাইক্রোনিডল প্যাচ, যা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দাঁত পুনরায় গজাতে সক্ষম। ড্রিল নয়, ইনজেকশনও নয়—শুধু ব্যথাহীন একটি প্যাচেই নতুন দাঁত গজানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্যাচটিতে রয়েছে টাইডেগ্লুসিব নামের একটি ওষুধ, যা মাড়ির ভেতরে থাকা ডেন্টাল স্টেম সেল সক্রিয় করে। গ্রোথ ফ্যাক্টরের সঙ্গে মিলে এই ওষুধ দাঁতের রুট অঞ্চলে নতুন এনামেল তৈরি করে এবং “দাঁতের বাড” তৈরি করে সম্পূর্ণ নতুন দাঁত গজানোর প্রক্রিয়া শুরু করে।
মুখের ওপরের মাড়িতে প্যাচটি প্রতিদিন মাত্র ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হয়। ত্বকের মতো সূক্ষ্ম মাইক্রোনিডল ব্যথাহীনভাবে ঔষধ পৌঁছে দেয় দাঁতের রুটে। এভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় GSK-3 নামের প্রোটিন, যা প্রাপ্তবয়স্কদের দাঁত পুনরায় গজানোকে বাধা দেয়।
গবেষকদের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়—
ছোট ক্যাভিটি ৪–৬ সপ্তাহে সম্পূর্ণ সেরে গেছে
ভাঙা বা চিপড দাঁতে ৮ সপ্তাহে নতুন এনামেল তৈরি
৩০% অংশগ্রহণকারীর দাঁতে নতুন “টুথ বাড” দেখা গেছে
কোনও ব্যথা নেই, নেই ড্রিলিং বা ফিলিংয়ের প্রয়োজন
এতটাই সহজ প্রক্রিয়া যে রোগী দিনে একবার প্যাচ লাগালেই চিকিৎসা চলবে!
বিশ্বে প্রতি বছর ৩.৫ বিলিয়ন মানুষ দাঁতের রোগে ভোগেন। ইমপ্লান্ট বা ডেনচারের মতো চিকিৎসায় খরচ হয় হাজার ডলার। অথচ মাইক্রোনিডল প্যাচের সম্ভাব্য দাম ৩০০ ডলার—যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
আরও বড় সুবিধা—গজানো দাঁত হলো সম্পূর্ণ নিজের, তাই রিজেকশনের ঝুঁকি নেই।
দক্ষিণ কোরিয়া ঘোষণা করেছে যে, তারা ২০২৬ সালের মধ্যেই প্যাচটি বাজারে আনতে প্রস্তুত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি শুধু দাঁত নয়—ভবিষ্যতে শরীরের অন্যান্য হাড় বা টিস্যু পুনর্গঠনে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোয়, তবে ভবিষ্যতের দন্তচিকিৎসা হবে—
ব্যথাহীন
ড্রিলবিহীন
সাশ্রয়ী
নিজের শরীরের স্টেম সেল নির্ভর
স্বাভাবিক দাঁত পুনর্গঠনের সক্ষম
এটি পুরো বিশ্বে ডেন্টাল ইন্ডাস্ট্রি, চিকিৎসা-দর্শন ও রোগীর অভিজ্ঞতাকে আমূল বদলে দেবে।
