‘টপ থার্টি’তে এসেই থেমে গেল মিথিলার মিস ইউনিভার্সের যাত্রা
রাজীব শাঁখারী
প্রকাশ: ১৬:০৩, ২২ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৮:১৫, ২২ নভেম্বর ২০২৫
‘টপ থার্টি’তে এসেই থেমে গেল মিথিলার মিস ইউনিভার্সের যাত্রা। ছবি: ফেসবুক
থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মিস ইউনিভার্সের ৭৪তম আসরে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশি মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। মিথিলা মঞ্চে যাওয়ার আগপর্যন্ত বাংলাদেশকে পাত্তাই দেয়নি অনেকে। এমনকি, বিদেশি ইনফ্লুয়েন্সার ও সাংবাদিকরাও ‘দুধভাত’ হিসেবেই ধরেছিল তাকে।
দৃশ্যপট ধীরে ধীরে বদলাওত থাকে ২ নভেম্বর। যখন, মিথিলা মিস ইউনিভার্সের অনুষ্ঠানস্থলে পা রাখে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা যখন আসতে থাকেন, তাদের ভিড়ে প্রথম দিন থেকেই বিশেষভাবে নজর কাড়তে শুরু করেন মিথিলা।

মিস ইউনিভার্সে মিথিলার পদার্পণ
তার সাজ-পোশাক, গয়না থেকে শুরু করে হাটা-চলা সবই ছিল নজরকাড়া। মিস ইউনিভার্সের ভেন্যুতে যাওয়ার আগে মিথিলা সপ্তাহখানেক প্রশিক্ষণ নেন ফিলিপাইনের এক কোচের কাছে। কোচের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের কিছু দিক উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মিথিলা নিজেই।
মিস ইউনিভার্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে টিভি ইন্টারভিউ, সব যায়গাতেই আলোচনায় মিথিলা। প্রতিবেলার সাজ-পোশাকেও নজর কাড়েন তিনি। মিস ইউনিভার্স চলাকালে মিথিলা জানান, এখানে নিজের লাগেজ ভালোভাবে গুছিয়ে রাখাটাও একটা বিশেষ গুণ হিসেবে ধরা হয়। কারণ, প্রতিযোগীদের খনে খনে সাজ-পোশাক বদলাতে হয়, তাই প্রতিদিনই সবকিছু গুছিয়ে রাখা জরুরি। থাইল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে প্রতিযোগীদের গ্রুমিং এবং ঘোরাফেরাতেও চলতে থাকে অলিখিত মার্কিং। তবে সবখানেই শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে আলোচনায় উঠে আসেন মিথিলা।

অনলাইনে ভোটিং পর্ব
অনলাইনে ভোটিং পর্ব শুরু হলে আলোচনা আরও বেড়ে যায়। মিস ইউনিভার্স আয়োজকেরাও বিশেষভাবে নজর রাখতে শুরু করেন মিথিলাকে। মানুষ নিয়মিত ভোট দিয়ে বিভিন্ন রাউন্ডে এগিয়ে রাখেন তাকে। এরপর ‘ক্লোজ ডোর ইন্টারভিউ’ সেশনে এসেও ভালো করেন মিথিলা। অনলাইন ভোটিংয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও শেষ দিন মিথিলা জিততে পারেননি। তবে, বিভিন্ন বিভাগের আলাদা ভোটে কোনোটায় প্রথম, কোনোটায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় হন।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করার পরও মিথিলা অনলাইন ভোটে হেরে যান ফিলিপাইনের প্রতিযোগীর কাছে। তবে, শেষমেষ দ্বাদশ প্রতিযোগী হিসেবে সেরা ৩০–এ জায়গা করে নেন নিজ যোগ্যতায়। এর আগে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত মঞ্চের একাধিক পর্বে ভালো করেন মিথিলা। ইভনিং গাউন, ন্যাশনাল কস্টিউম, বিকিনি রাউন্ডেও ছিলেন শক্ত অবস্থানে।

ফাইনালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ
২০ নভেম্বর ১৩০টি দেশের প্রতিযোগী সারা দিন রিহার্সাল করেন ফাইনালের জন্য। রাত ১২টায় রুমে ফিরে দুই ঘণ্টার জন্য ‘ন্যাপ’ নেওয়ার সময় পান মিথিলা। এরপরই ২১ নভেম্বর রাত ৩টায় উঠে মেকআপ নিতে বসেন ফাইনালের জন্য। মেকআপ চলাকালে কিছুক্ষণের জন্য ফেসবুক লাইভে এসে ফাইনালের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে মিথিলা বলেন, ‘আমি আমার সেরাটা দিয়ে লড়াই করেছি। বাকিটা বিচারকদের হাতে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আজ ভোরেই বোঝা যাবে শেষ ফলাফল।’
বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হয় সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অর্থাৎ, মিস ইউনিভার্স ২০২৫–এর চূড়ান্ত পর্ব। সেখানেই উপস্থাপক ঘোষণা করেন সেরা ৩০ প্রতিযোগীর নাম। আর প্রথমবারের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা সুন্দরী প্রতিযোগিতা মিস ইউনিভার্সের ‘টপ থার্টি’ তালিকায় ঘোষণা হয় বাংলাদেশের প্রতিযোগী মিথিলার নাম।

‘সুইমস্যুট ওয়াক’ পর্বেই মিথিলার ছন্দপতন
বাছাই করা ‘টপ থার্টি’কে নিয়েই শুরু হয় ‘সুইমস্যুট ওয়াক’ পর্ব। যেখানে, সুইমস্যুট পরে একে একে মঞ্চে হাঁটেন ৩০ প্রতিযোগী। বিচারকেরা সেই হাঁটা দেখেই বেছে নেন সেরা ১২। আর এখানেই হাঁটতে গিয়ে হয় ছন্দপতন। সামান্য হোঁচট খান মিথিলা। সঙ্গে সঙ্গেই নিজেকে সামলে নিয়ে হাঁটা শেষ করেন মিথিলা। মিস ইউনিভার্সের নিয়মানুযায়ী, র্যাম্পে হাঁটার সময় ছোট্ট ভুল বা ছন্দপতনের কোনো সুযোগ নেই। ফলে ছোট্ট এই হোঁচটই মিথিলাকে সেরা ১২ থেকে ছিটকে ফেলে দেয়।
কিছুক্ষণ পর সেরা ১২ নাম ঘোষণার পর দেখা যায়, মিথিলা ছাড়াও বাদ পড়াদের তালিকায় ছিলেন মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া, মিস ইউনিভার্স ফ্রান্স, মিস ইউনিভার্স ব্রাজিল, মিস ইউনিভার্স যুক্তরাষ্ট্রও।
মিস ইউনিভার্স ২০২৫ খেতাব জেতেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ
ফাইনালে মিস ইউনিভার্স ২০২৫ খেতাব জেতেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ। মুকুট, স্যাশে ও ফুলের তোড়া নিয়ে ছবি তোলার পর একে একে বাকি সব সুন্দরী মঞ্চে ওঠে আসেন। মুকুটজয়ীকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানান তানজিয়া জামান মিথিলা এবং অন্য প্রতিযোগীরাও।

বাংলাদেশের ফ্যাশন অঙ্গনের সনামধন্য উদ্যোক্তা এবং ন্যাশনাল ডিরেক্টর আজরা মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ এ পর্যন্ত যতবার মিস ইউনিভার্সে গেছে, তার মধ্যে মিথিলার এই অর্জনই সেরা। সেরা ৩০ জনের মধ্য থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করা বাংলাদেশের জন্যও দারুণ খবর। তবে এই পর্যায়ে যেতে মিথিলার যে হার্ড ওয়ার্ক ও ডেডিকেশন দেখেছি, তা অতুলনীয়। কর্মই ওকে ওর ফল এনে দিয়েছে। আর বাংলাদেশের মানুষও মিথিলাকে দারুণ সাপোর্ট করেছে। এখন থেকে মিস ইউনিভার্স তো বটেই, অন্য সব সুন্দরী প্রতিযোগিতাতেও বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের স্ট্রং কন্টেস্ট্যান্ট হিসেবে বিবেচনা করবে।’
