বিশ্বমঞ্চের নতুন ধারায় সৌদির মডেস্ট ফ্যাশন
রাজীব শাঁখারী
প্রকাশ: ২০:৩৬, ২০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২০:৪২, ২০ নভেম্বর ২০২৫
বিশ্বমঞ্চের নতুন ধারায় সৌদির মডেস্ট ফ্যাশন। ছবি: সৌদি হান্ড্রেড ব্র্যান্ডস
একসময়ের সীমাবদ্ধতা হিসেবে বিবেচিত সেই মডেস্ট পোশাক এখন হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক স্টাইলে। আর এই পরিবর্তনের পেছনে সৌদির নতুন প্রজন্মের ডিজাইনারদের ভূমিকা অপরসীম। তারা ঐতিহ্য ও আধুনিকতাকে একসূতায় গেঁথে ফ্যাশনকে উপস্থাপন করছেন নতুন রূপে। তাদের তৈরি ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে। আজ সৌদির তরুণ ডিজাইনারদের সৃজনশীলতা বৈশ্বিক রানওয়েতে রাখছে সৃষ্টিশীলতার সাহসী স্বাক্ষর। তাদের কাজে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন বিশ্বের সকল প্রান্তের নারীরাও।

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে ফ্যাশনের নতুন পরিচয়
আবায়া ও হিজাব, এতদিন বিশ্বাস আর সহজতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সেই পোশাক এখন নতুন করে সামনে এসেছে এক নতুন ফ্যাশন–বার্তা হয়ে। এখন আবায়াতে দেখা মিলছে বৈচিত্রময় বাহারি রঙ, ঢিলেঢালা কটিং এবং আকর্ষণীয় নকশায়। অনুরূপ হিজাবও নিয়েছে - সিল্ক, শিফন কিংবা সুতি বস্ত্র, চোখ জুড়ানো প্রিন্ট এবং মার্জিত রঙের ব্যবহার। আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের প্রতীকে তৈরি এসব নতুন রুপালী হিজাব বিশ্বজুড়ে নারীদের কাছে হয়ে উঠছে জনপ্রিয়।

বিশ্বমঞ্চে সৌদি মডেস্ট ফ্যাশনের পদচারণা
মডেস্ট ফ্যাশন এখন শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পাশ্চাত্যের নারীরাও ক্রমে দীর্ঘ এই লেয়ারিংয়ের পোশাক এবং মিনিমালিস্ট সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বর্তমান মডেস্ট ফ্যাশন। সৌদি মডেস্ট ফ্যাশনের এই পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক হলেন সৌদির দুইজন বিশিষ্ট ডিজাইনার-রাজান আলাজ্জুনি এবং হিন্দাম্মে।
সৌদি মডেস্ট ফ্যাশনের পথপ্রদর্শক
রাজান আলাজ্জুনি তার ‘মনোক্রোম’ কালেকশন উপস্থাপন করেছেন এবারের রিয়াদ ফ্যাশন উইক ২০২৫-এ। সৌদি সংস্কৃতির শিকড়ের সঙ্গে আধুনিক নকশার সম্পৃক্ততা স্পষ্ট ছিল তার কাজে। আর হিন্দাম্মে’র ‘হেজাজ’ সংগ্রহে ফুটে উঠেছে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সমকালীন নান্দনিকতা। এর আগে উভয়ের কাজ প্রদর্শিত হয়েছে লন্ডন, প্যারিস ও নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চেও।

রিয়াদ ও জেদ্দার রাস্তায় নতুন প্রজন্মের ফ্যাশন
নতুন এক সাংস্কৃতিক ভাষার উন্মেষ দেখা যায় রিয়াদ বা জেদ্দার রাস্তায় হাঁটলে। জিনসের সঙ্গে লম্বা টিউনিক পরছেন তরুণ-তরুণীরা, ঐতিহ্যবাহী কেফিয়াহকের উপস্থাপনে নতুনত্ব, আরামদায়ক আবায়ার সঙ্গে মিলিয়ে নিচ্ছেন স্নিকার্স। এটি কেবল স্টাইল নয়, বরং এটি এক সাংস্কৃতিক রুপান্তর। সৌদি তরুণরা প্রমাণ করছে, ঐতিহ্য মানেই পিছিয়ে পড়া নয়; বরং সেটাকে ধারণ করে এক শক্তিশালী, যথার্থ ও আধুনিক পরিচয়ের ভিত্তি তৈরি করা।

ফ্যাশনের নতুন সংজ্ঞা তৈরির সুযোগ এখন বাংলাদেশের
সৌদি মডেস্ট ফ্যাশনের এই উত্থান অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বাংলাদেশের জন্য ফ্যাশনের নতুন সংজ্ঞা তৈরির সুযোগ। আমাদের ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্প, জামদানি, মসলিন, নকশিকাঁথাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে সৌদি ফ্যাশনের নবজাগরণের এই ধারা হতে পারে অনুপ্রেরণার মূল চাবিকাঠি। এটি শুধু ফ্যাশন নয়, বরং এটি হতে পারে আমাদের সাংস্কৃতির নতুন প্রজন্মের উত্তরাধিকারের এক আধুনিক রূপান্তর।
