বিরাট কোহলি থেকে আদিত্য রায় কাপুর—রোজ একই খাবার কেন খান তারকারা
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:১৪, ২০ নভেম্বর ২০২৫
আদিত্য রায় কাপুর ও বিরাট কোহলি
ফিটনেস-দুনিয়ায় এখন নতুন ট্রেন্ড—‘মিনিমাল মিল রুটিন’। বিরাট কোহলি, আদিত্য রায় কাপুরসহ বহু বলিউড তারকা প্রতিদিন প্রায় একই ধরনের খাবার খান। কারও প্লেটে থাকে ব্রাউন রাইস, গ্রিল্ড চিকেন ও সবজি; কেউ আবার নিয়মিত কিনোয়া, স্যালাড আর প্রোটিন সোর্সেই আটকে থাকেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই অভ্যাস কি নিরাপদ? নাকি অন্ধ অনুকরণ করলে সাধারণ মানুষের শরীরে উল্টো বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেলিব্রিটিদের জন্য এই খাদ্যাভ্যাস যেমন কার্যকর, সাধারণ মানুষের জন্য তেমনি কিছু স্পষ্ট ঝুঁকিও লুকিয়ে রয়েছে।
কেন তারকারা প্রতিদিন একই খাবারের দিকে ঝুঁকছেন?
১. শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ
প্রতিদিন কী খাবেন, কত ক্যালোরি নেবেন—এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকে না।
ফলে ডিসিশন ফ্যাটিগ কমে যায়, এবং কঠোর ফিটনেস রুটিন বজায় রাখা সহজ হয়।
২. নির্দিষ্ট ক্যালোরি ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
একই খাবার মানে ক্যালোরি, কার্ব, প্রোটিন ও ফ্যাট সবই নির্ধারিত।
হঠাৎ স্ন্যাকিং, অতিভোজন—এসব প্রবণতা অনেকটাই কমে।
৩. গ্লুকোজ স্টেবল থাকে
নিয়মিত, রুটিন মেনে খাবার খেলেই রক্তে শর্করা ওঠানামা কম হয়।
অ্যাথলিট বা অভিনেতাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এর ঝুঁকি কোথায়? বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
১. পুষ্টির বৈচিত্র্য কমে যায়
একই খাবার প্রতিদিন খেলে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস—অনেক কিছুর ঘাটতি দেখা দেয়।
দেহ স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন ধরনের খাবার চাই।
২. গাট হেলথ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
গবেষণা বলছে—বৈচিত্র্যময় খাবার গাটে ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাড়ায়।
একই মেনু বারবার খেলে মাইক্রোবায়োম দুর্বল হয়—হজম, মেটাবলিজম ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
৩. মানসিক ক্লান্তি ও ‘ফুড বোরডম’
একই স্বাদের খাবার বারবার খেলে মনোভাবেই একঘেয়েমি আসে।
অনেক সময় পরে গিয়ে জাঙ্ক ফুড বা অতিভোজনের প্রবণতা বেড়ে যায়।
তারকারা পারেন, আমরা কেন পারি না?
পুষ্টিবিদদের মতে—
সেলিব্রিটিদের খাবার এক্সপার্ট টিম দ্বারা ডিজাইন করা
তাদের শরীরের প্রতিটি পরিবর্তন ঘনিষ্ঠভাবে মনিটর হয়
প্রয়োজন হলে তারা সাপ্লিমেন্ট নেন
তাদের ফিটনেস টার্গেট অত্যন্ত নির্দিষ্ট ও পেশাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ যদি প্রতিদিন এক মেনু ধরে রাখেন—
দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টির ঘাটতি, গাট সমস্যাসহ একাধিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
রোটেশন মেনু তৈরি করুন
একই খাবার নয়, সপ্তাহে ৪–৫ ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবারের রোটেশন রাখুন।
বৈচিত্র্য রাখুন
শস্য + প্রোটিন + সবজি + ভালো ফ্যাট—এই কম্বিনেশনের বিভিন্ন রূপ প্লেটে রাখুন।
অন্ধ অনুকরণ নয়
তারকারা যা খান, তা আপনার শরীরেও একই ফল এনে দেবে—এমন ভাবা ভুল।
