ঠোঁট ফাটছে ঘরে বসেই সমাধান করুন
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:০৪, ২০ নভেম্বর ২০২৫
শীতের শুরুতেই অনেকের ঠোঁট রুক্ষ ও ফাটতে শুরু করে। কেউ কেউ আবার সারা বছরই শুষ্ক ঠোঁটের সমস্যায় ভোগেন। মুখের ত্বকের মতো ঠোঁটেও বিশেষ যত্ন প্রয়োজন—কারণ ঠোঁটের ত্বক সবচেয়ে কোমল এবং সহজেই দূষণ, শীতের বাতাস ও সূর্যের রশ্মিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সঠিক পরিচর্যা না করলে ঠোঁট দ্রুত কালচে, রুক্ষ ও বেদনাদায়কভাবে ফেটে যেতে পারে।
ঠোঁট নরম, গোলাপি ও মসৃণ রাখতে ঘরেই সহজ কিছু উপায় অনুসরণ করলেই মিলবে দ্রুত উপকার।
১. সপ্তাহে দু’বার ঠোঁট স্ক্রাব করুন
মরা চামড়া জমে থাকলে ঠোঁট সবসময় রুক্ষ দেখায়। বাড়িতে খুব সহজে চিনি ও মধু দিয়ে একটি নরম স্ক্রাব তৈরি করতে পারেন।
হালকাভাবে ঠোঁটে ঘষে ১ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
নিয়মিত করলে ঠোঁট দ্রুত নতুন ও মসৃণ হয়ে ওঠে।
২. প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজার সবচেয়ে কার্যকর
শীতে লিপ বাম ব্যবহার জরুরি হলেও রাসায়নিক কম এমন পণ্যই উত্তম। পাশাপাশি ঘরোয়া উপাদানগুলোও অত্যন্ত কার্যকর।
মধু: প্রাকৃতিক হিউমেকট্যান্ট, আর্দ্রতা ধরে রাখে।
অ্যালোভেরা: জ্বালা কমায় ও আর্দ্রতা বাড়ায়।
নারকেল তেল: সারা রাত লাগালে ভেতর থেকে নরম হয়।
ঘি: পুরনো দিনের পরীক্ষিত সমাধান, ফাটল দ্রুত সারায়।
দিনে অন্তত ২–৩ বার লিপ ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করলে ঠোঁট ফাটার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
৩. বাইরে বেরোলে অবশ্যই এসপিএফ যুক্ত লিপ বাম
অনেকেই জানেন না, শীতের রোদ ঠোঁট আরও বেশি শুষ্ক করে। তাই দিনের বেলায় এসপিএফ যুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করা জরুরি।
মেন্টহল বা অতিরিক্ত সুগন্ধি থাকা বাম এড়িয়ে চলুন—এগুলো ঠোঁট আরও শুষ্ক করে।
৪. ঘরের আর্দ্রতা ঠিক রাখুন
শীতকালে রুম হিটার বা বাতাসের শুষ্কতায় ঘরের আর্দ্রতা কমে যায়। এতে শুধু ঠোঁট নয়, পুরো ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে।
রাতে ঘুমানোর সময় হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে ঠোঁট সারাক্ষণ ভেজা ও নরম থাকে।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শীতে অনেকেই জল কম পান করেন। শরীরের ভেতরে জল কম থাকলে তার প্রভাব প্রথম দেখা যায় ঠোঁটে।
দিনে ৬–৮ গ্লাস জল পান করলে ঠোঁট স্বাভাবিকভাবেই হাইড্রেটেড থাকে।
৬. ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো বাদ দিন
ঠোঁট শুকারেলে বারবার ঠোঁট চাটা সবচেয়ে ক্ষতিকর।
এতে লালা শুকিয়ে ঠোঁট আরও ফাটে।
ঠোঁট কামড়ানো বা খসখসে অংশ খোঁচানো থেকেও দূরে থাকুন।
শীতের কড়া ঠান্ডায় ঠোঁট শুষ্ক হওয়া স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক প্রোডাক্ট আর ঘরোয়া উপায় মেনে চললে ঠোঁটের ফাটল একদম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়—এমনকি এক রাতেই দেখা মিলতে পারে আরাম।
