উপকারী অ্যালোভেরায় জরুরি সাবধানতাও
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:১৬, ৭ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ১৮:১৯, ৭ অক্টোবর ২০২৫
শরীরের নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে কিংবা ছোটখাটো অসুখ সারাতে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর জুড়ি মেলা ভার। এটি যেমন খাবার ও পানীয় হিসেবে কার্যকর, তেমনি বাহ্যিকভাবেও বহুদিন ধরে রূপচর্চা ও প্রাকৃতিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ঠান্ডা প্রভাব, প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা ও ত্বক মসৃণ রাখার গুণে এটি ‘প্রাকৃতিক জেল’ হিসেবে জনপ্রিয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন—সবার জন্য অ্যালোভেরা একেবারেই নিরাপদ নয়। বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি ত্বকের মারাত্মক ক্ষতির কারণও হতে পারে।
অ্যালোভেরার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ত্বকে অ্যালোভেরা ব্যবহারের ফলে যে সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে তা হলো—
ত্বকে জ্বালা ও লালভাব: সংবেদনশীল ত্বকে লাগালে জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।
অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া: অনেকের ক্ষেত্রে ফুসকুড়ি, ফোলাভাব বা কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস দেখা দেয়।
অতিরিক্ত শুষ্কতা: বারবার বা অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে গিয়ে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
সূর্যালোক সংবেদনশীলতা: কিছু ক্ষেত্রে এটি ত্বককে অতিবেগুনি রশ্মির প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে তোলে।
চর্মরোগের অবনতি: একজিমা, রোজিয়া বা সোরিয়াসিসে আক্রান্তদের জন্য অ্যালোভেরা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।
যাদের অ্যালোভেরা ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত
রসুন, পেঁয়াজ বা টিউলিপে অ্যালার্জি আছে এমন ব্যক্তিরা অ্যালোভেরা ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।
যাদের ত্বক খুবই সংবেদনশীল বা আগে থেকেই চর্মরোগ রয়েছে, তাঁদের ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকা দরকার।
খোলা ঘা বা ফাটা ত্বকে এটি লাগানো একেবারেই নিষেধ।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীরা, বিশেষ করে খাওয়ার মাধ্যমে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
কিডনির সমস্যা বা শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা থাকলে অ্যালোভেরা ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
নিরাপদ ব্যবহারের পরামর্শ
প্রথমবার ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করুন।
ত্বকে খুব বেশি পরিমাণে লাগাবেন না।
রোদে বের হলে অ্যালোভেরা ব্যবহারের পর সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
কোনও অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অ্যালোভেরা নিঃসন্দেহে একটি কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান, তবে এটি সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। সংবেদনশীল ত্বক, অ্যালার্জির প্রবণতা বা নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা থাকলে ঘৃতকুমারী হতে পারে ক্ষতির কারণ। তাই ব্যবহার করার আগে সচেতনতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ—এই দুটি বিষয়ই সবচেয়ে জরুরি।
