দশমীর দুপুরে বাসন্তী পোলাও আর মাটন রোগান জোশ
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:৩৬, ১ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ১৯:৫৩, ২ অক্টোবর ২০২৫
বাসন্তী পোলাও
দুর্গাপূজার দিনগুলোতে প্রায় সবাই মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ান, ফলে বাসায় বিশেষ রান্নার সুযোগ খুব কম হয়। তবে দশমীর দুপুরে পরিবারকে নিয়ে জম্পেশ খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করলে আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়। এ দিনের জন্য বাসন্তী পোলাও এবং মাটন রোগান জোশ হতে পারে দুর্দান্ত এক কম্বিনেশন। নাম শুনে জটিল মনে হলেও খুব সহজ উপকরণে এই দুই খাবার বানানো সম্ভব।
বাসন্তী পোলাও রেসিপি
উপকরণ
-
বাসমতী/কালিজিরা চাল – ২ কাপ
- ঘি – ৩–৪ টেবিল চামচ
- গুঁড়ো হলুদ – আধা চা চামচ
- কাজুবাদাম – ১০–১২টি
- কিশমিশ – ১৫–২০টি
- দারুচিনি – ২ টুকরো
- এলাচ – ৪টি
- লবঙ্গ – ৪টি
- তেজপাতা – ১টি
- চিনি – ৪ টেবিল চামচ (স্বাদমতো)
- লবণ – ১ চা চামচ
- গরম পানি – প্রায় ৪ কাপ
প্রস্তুত প্রণালী
১. চাল ধুয়ে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে নিন।
২. কড়াইতে ঘি গরম করে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ দিয়ে ভাজুন।
৩. কাজু ও কিশমিশ হালকা ভেজে তুলে রাখুন।
৪. চাল দিয়ে অল্প আঁচে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না ঘ্রাণ বের হয়।
৫. হলুদ, লবণ ও চিনি মিশিয়ে গরম পানি ঢেলে দিন। ঢেকে দিন কম আঁচে।
৬. পানি শুকিয়ে এলে কাজু-কিশমিশ মিশিয়ে নামিয়ে নিন।
৭. শেষে আবার সামান্য ঘি ছড়িয়ে ঢেকে রাখুন।
মাটন রোগান জোশ রেসিপি
উপকরণ
-
মাটন – ৫০০ গ্রাম (হাড়সহ টুকরো করা)
- পেঁয়াজ – ২টি (সোনালি করে ভাজা)
- আদা–রসুন বাটা – ২ টেবিল চামচ
- গরম মসলা – ১ চা চামচ
- লাল মরিচ গুঁড়া – ১–২ চা চামচ
- হলুদ গুঁড়া – আধা চা চামচ
- দই – আধা কাপ
- তেল/ঘি – ৪–৫ টেবিল চামচ
- লবণ – স্বাদমতো
- দারুচিনি – ২ টুকরো
- এলাচ – ৪–৫টি
- লবঙ্গ – ৪টি
- তেজপাতা – ১টি
- পানি – ২ কাপ
- ধনেপাতা কুচি – সাজানোর জন্য
প্রস্তুত প্রণালী
১. মাটন টুকরোতে লবণ, হলুদ, লাল মরিচ, দই ও আদা–রসুন মিশিয়ে ৩০ মিনিট মেরিনেট করুন।
২. কড়াইতে তেল/ঘি গরম করে দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ও তেজপাতা দিয়ে ভেজে নিন।
৩. পেঁয়াজ সোনালি ভেজে মেরিনেট করা মাংস দিয়ে ৫–৭ মিনিট ভাজুন।
৪. বাকি দই মিশিয়ে অল্প আঁচে রান্না করুন।
৫. গরম পানি দিয়ে ঢেকে মাংস নরম হওয়া পর্যন্ত সেদ্ধ করুন।
৬. শেষে গরম মসলা ছিটিয়ে ৫ মিনিট ঢেকে রাখুন।
৭. পরিবেশনের আগে ধনেপাতা কুচি ও চাইলে জাফরান বা কাজু দিয়ে সাজান।
দশমীর দুপুরে বাসন্তী পোলাও আর মাটন রোগান জোশের এমন আয়োজন কেবল পেট ভরাবে না, উৎসবের আনন্দকেও করবে বহুগুণে সমৃদ্ধ। বাঙালির ঐতিহ্য আর কাশ্মীরি রান্নার স্বাদ একসাথে মিলে এই উৎসবকে স্মরণীয় করে তুলবে।

