দুর্গাপূজায় ভক্তিমূলক সাজে আলতার ৫ নকশা
সমাজকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:১৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৭:৩২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আলতা হলো উজ্জ্বল লাল বা গাঢ় গোলাপি তরল রং, যা প্রচলিতভাবে বাংলার ধর্মীয় উৎসব ও বিয়ের সময় হাতে ও পায়ে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় নারীরা আলতা দিয়ে হাত ও পায়ে নকশা করে থাকেন। এটি সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক প্রকাশ এবং শুভ ভাব আনার এক বিশেষ রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আলতার উজ্জ্বল রঙ উৎসবের সাজ, পোশাক ও ভক্তিমূলক আবহের সঙ্গে দারুণ মানানসই। দুর্গাপূজায় সাজের জন্য আলতার পাঁচ ধরনের নকশার বিবরণী উল্লেখ করা হলো।

এক. বৃত্তাকার নকশা
এই ধরণের নকশার মূল বৈশিষ্ট্য হলো হাতে বা পায়ের পিঠে বা তালুতে একটি বড় কেন্দ্রীয় বৃত্ত তৈরি করা। এর চারপাশে পরপর বিন্দু ও রশ্মির মতো সাজানো উপাদান রাখা। এটি ভারসাম্যপূর্ণ একটি আকৃতি প্রদান করে, যা বৃত্তকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। যারা সম্পূর্ণ হাত বা পা ভর্তি করতে চান না, তাদের জন্য এটি একটি ঐতিহ্যবাহী নকশার উপযুক্ত পদ্ধতি।

দুই. ফুল ও পাতার মোটিফ
ফুলের নকশায় পাপড়ি ও লতাপাতা হাতে বা পায়ে সাজানো। এগুলো নরম বক্ররেখার মাধ্যমে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। নকশাগুলো সূক্ষ্ম বা জাঁকজমকপূর্ণ হতে পারে এবং প্রায়ই ছোট বিন্দু বা বক্ররেখার মাধ্যমে ফুলগুলোকে ফ্রেম করা হয়। এই ধরণের নকশা দুর্গাপূজার উৎসবমুখর আবহের সঙ্গে খুব মানায়।

তিন. সুক্ষ্ম রেখা বা সরল সীমারেখা
যারা আধুনিক ও সংযমী নকশা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই ধরণ উপযুক্ত। এতে কেবল কব্জি বা টাখনুতে পরিষ্কার রেখা বা সীমারেখা থাকে এবং পুরো হাত বা পা ভর্তি করা হয় না। মাঝে মাঝে এক বা দুইটি বাঁধন আঙুলের বা পায়ের রেখার কাছে একটি সীমারেখা দিয়ে নকশা সম্পন্ন করা হয়। এটি আরামদায়ক, দ্রুত করা যায় এবং খুব মার্জিত দেখায়।

চার. মেহেদি ও আলতার সংমিশ্রণ
এই হাইব্রিড স্টাইলে মেহেদির জটিলতা আলতার উজ্জ্বলতার সঙ্গে মিশে যায়। উদাহরণস্বরূপ, আলতা ব্যাস বা হাইলাইট হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং এর চারপাশে বা উপরে মেহেদির সূক্ষ্ম নকশা আঁকা হয়। লাল আলতার সঙ্গে গাঢ় মেহেদির রেখার বৈপরীত্য নকশাটিকে গভীরতা এবং দৃশ্যমান আকর্ষণ প্রদান করে।

পাঁচ. পায়ের ওপর কেন্দ্রীভূত নকশা
এই স্টাইলে আলতা নকশা মূলত পায়ের ওপর ফোকাস করা হয়। আঙুলের ডগা রঙ করা, টাখনুর চারপাশে সীমারেখা তৈরি করা বা পায়ের তলায় আলাদা মোটিফ সংযোজন করা হয়। পায়ের উপরের অংশে একটি কেন্দ্রীয় নকশা এবং তা থেকে বিকীর্ণ করে সাজানো উপাদানগুলো আকর্ষণ বৃদ্ধি করে। শাড়ি বা লেহেঙ্গার নীচের অংশে পা দৃশ্যমান হওয়ায় এই ধরণের নকশা পোশাক ও পাদুকার সৌন্দর্য উভয়ই বৃদ্ধি করে।
দুর্গাপূজার সময় আলতার এই নকশাগুলো শুধুমাত্র সাজসজ্জা হিসেবে নয়, বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভক্তিমূলক অনুভূতিকে আরও সমৃদ্ধ করে।
-টাইমস অব ইন্ডিয়া
